প্রকাশিত : বৃহঃস্পতিবার , ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ , সকাল ১১:১১।। প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার , ১৯ এপ্রিল ২০২৬ , বিকাল ০৪:৫৭

কাজিপুরে যে ব্যর্থতার দায় জয় আর খলিলের


স্টাফ রিপোর্টারঃ  বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রয়াত প্রেডিসডিয়াম সদস্য ও একাধিক মন্ত্রণালয় সামলানো নেতা মোহাম্মদ নাসিমের চলে ডাবার পরে কাজিপুরের উন্নয়নে এক প্রকার শূন্যতার সৃষ্টি হয়।  নাসিমকে যদি বলা হয় উন্নয়নের বাঘ তাহলে সেখানে একটা গিরগিটি বলা চলে তার সন্তান সাবেক এমপি তানভীর শাকিল জয়কে। নাসিমের মৃত্যুর পরে একের পর এক সুযোগ তার কাছে এলেও শুধুমাত্র নিজের দুর্নীতির কারণে তৎকালিন প্রধানমন্ত্রীর নিকটে তিনি যেতেই পারেননি। তার মা লায়লা নাসিম এবং তার নিজের দুর্নীতির পরিমাণ এতো বেশি ছিলো যে দলের মধ্যে  জয় এর কোন গ্রহণযোগ্যতাই ছিলো না।  নিছক নাসিম সাহেবের পুত্র  আর নৌকার ঘঁটি কাজিপুর বলে তিনি নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন। কখনই নিজ যোগ্যতায় নয়। একারণে দলের বিপদের সময়ে একের পর এক বেরিয়ে আসছে জয় এবং তার সকল অপকর্মের দোসর খলিলের দুর্নীতি। তারা দুজনেই এমন অপকর্ম করেছেন যে, শতকরা ৯০ ভাগ আওয়ামী লীগের কাজিপুর থেকে তাদের পালিয়ে থাকতে হচ্ছে। সিরাজগঞ্জ-১ এর সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয় ও  কাজিপুর উপজেলা চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানের দুর্নীতির আমলনামা প্রকাশিত হতে শুরু করেছে।  নৌকার ঘঁটিখ্যাত কাজিপুরের মানুষকে বিপদে রেখে  এমপি জয় তার সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে পালিয়েছেন। অথচ এই কাজিপুরের মাটিও নৌকার কথা বলে। আর সেই মাটি থেকে যারা পালিয়ে যায় তাদের বিষয়ে সাধারণ মানুষের ধ্যান ধারণা সব পাল্টাতে শুরু করেছে। ক্ষুব্ধ সাধারণ কাজিপুরবাসী জয় এবং খলিলের আমলনামা বানাতে শুরু করেছেন। তাদের দৃষ্টিতে এই দুইজনের আমলনামা কেমন ছিলো তাই বিশ্লেষণের চেষ্টা করে তুলে ধরছে জাতীয় দৈনিক আজকের জনবাণী। আর এরইমধ্যে পুরো কাজিপুর সহ পুরো সিরাজগঞ্জের আজকের জনবাণী  এবং কলমসৈনিক পত্রিকাটি এখন হটকেক। অনেক সময় পত্রিকা না পেয়ে ফটোকপিও বিক্রি হতে দেখা গেছে। কাজিপুরের বেশকিছু প্রকল্প আলোর মুখ দেখেনি শুধুমাত্র জয় এবং তার দোসর খলিলের অজ্ঞতা এবং অব্যবস্থাপনার কারণে। তার একটি হচ্ছে চরাঞ্চলের ভেটুয়া জগন্নাথপুরে একটি বড় গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান চরাঞ্চলের মানুষ বকুল সরকার এক সময় নাসিম সাহেবের নিকট থেকে ডিওলেটার নিয়ে এই ব্রিজ তৈরির নানাদিক নিয়ে সম্ভাব্যতা তৃুলে ধরে মন্ত্রণালয়ে পত্র চালাচালি করেন। তখন এই প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন লাভ করে। তারা দফায় দফায় সেতুর সম্ভাব্য স্থান ও নির্মাণ বিষয়ে স্টাডি করে একটি সার সংক্ষেপ তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠান। এরইমধ্যে নাসিম সাহেব মারা যান। আসে ঘোর করোনা। সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড মুখ থুবড়ে পড়ে।  তারপর সবকিছু স্বাভাবিক হলে এই সেতুর কাজ আর শুরু করা যায়নি। এরইমধ্যে  জয় সাহেব এই সেতু তৈরিতে তার মত পাল্টান খলিলের পরামর্শে।  এ বিষয়ে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানসহ অনেকেই মুখ খুলেছেন। তারা সেতু তৈরির জন্যে নানাপ্রকারের চেষ্টা চালিয়ে গেলেও জয় এর নেতিবাচক মনোভাবের কারণে এখনো সেতুটি আলোর মুখ দেখেনি। জয় মুখে বলে সেতু দরকার চেষ্টা করছেন বলে লোকজনকে জানান। কিন্তু অফিসিয়ালি তিনি করেন এর বিরোধিতা। একারণে মনসুরনগর থেকে নাটুয়ারপাড়া পর্যন্ত স্থল যোগাযোগ এখনও অধরাই থেকে গেছে। চরাঞ্চলের মানুষের থেকে যে নেতা সর্বোচ্চ সহযোগিতা সব সময় পেয়ে থাকেন সেই নেতাই কিনা তাদের বাগ্যের উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন এটাই বাস্তবতা বর্তমানে।  কেউ এ বিষয়ে ইচ্ছে করলে খোঁজ নিয়ে দেখলেই বিষয়টি পরিস্কার হবে।   এরপর আমি বাফার গুদামের কথা। মোহাম্মদ নাসিম থাকাকালিন কাজিপুরে সারের বাফার গুদাম তৈরির সম্ভাব্যতা নিরূপণ শেষে একনেকে এই প্রকল্প পাসও হয়। কিন্তু নাসিম সাহেবের মৃত্যুর পরে তার অযোগ্য সন্তান এমপি হলে এই প্রকল্পও আর আলোর মুখ দেখেনি। অথচ এই গুদামটি নির্মিত হলে জামালপুর থেকে সার এসে যমুনার গেশাই ঘাটে লাগতো। ফলে এলাকার মানুষের রুটি রৃুজির নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতো। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নেবার মতো সাহসও হয়নি জয় এর। ফলে এখনো এই প্রকল্প ভেস্তে যেতে বসেছে।  এরপর চরাঞ্চলের বিদ্যুতের বিষয়ে জানাচ্ছি এক অজানা কথা। আশা করি পাঠক এই তথ্যটি পাবার পরে জয় খলিলের বিষয়ে নতুন করে ভাববে। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বকুল সরকারের প্রচেষ্টায় নাসিম সাহেবের একটি ডিওলেটারের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে দৌড়ঝাঁপ করে কয়েক বছর পূর্বে জামালপুর থেকে কাজিপুরের চরাঞ্চলের ছয়টি ইউনিয়নে বিদ্যুতের সংযোগ প্রদান করা হয়। চরবাসী তখন নাসিম সাহেবকে মনে করতো ভাগ্যবদলের নেতা। কিন্তু তার অবর্তমানে জয় যখন এমপি জয় তখন থেকেই চরবাসী বিদ্যুতের সেবা থেকে ক্রমাগতভাবে বঞ্চিত হতে থাকে। দিনরাত ২৪ ঘন্টা মিলে দশ ঘন্টাও চরের মানুষ বিদ্যুৎ সেবা পাচ্ছেন না এখনো। এরমূল কারণ হলো যখন জামালপুর থেকে লাইন আসে তখন চরবাসীর জন্যে আলাদা লোড ম্যানেজমেন্ট করা ছিলো না। পরে একটা সার্ভে করে এই সমস্যার সমাধানের কথা বলা হয়। কিন্তু নাসিম সাহেবের মৃত্যুর পরে সে চিন্তায় ভাটা পড়ে। চরবাসীর প্রায় তিরিশ হাজার সংযোগের বিপরীতে এখনো চরে বিদ্যুতের একটা অভিযোগ কেন্দ্রও প্রতিষ্টা করা সম্ভব হয়নি। এখণো একটি ফিউজ পড়ে গেলে জামালপুরের সরিষাবাড়ি থেকে বিদ্যুর লোকজনকে ফোন করে আনতে হয়। এরজন্যে তারাও উৎকোচ নিয়ে থাকেন। আর লোড বেশি নেই বলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা পাচ্ছেন না চরবাসী। জয় এমনই এক এমপি যে এই বিষয়ে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তিনি একটি কথাও বলেননি। আর চরবাসির বিষয়ে তিনি কোন বিষয়েই সঠিক সিদ্ধান্ত নেননি। এই বিষয়টি আরও পরিস্কার হবে যদি আপনারা জামালপুর বিদ্যুৎ অফিসে খোঁজ নেন তাহলে । শুধু তাই নয় চরে অনেক রাস্তা করার কথা বলে সাধারণ নেতাকর্মিদের দিয়ে কাজ করিয়েছেন। কিন্তু এখনো অনেকে কোন বিল পাননি। তারা এখন কার কাছে গিয়ে এই কথা বলবেন ভেবে পাচ্ছেন না। রাস্তার বিষয়ে জয় খলিলের কথায় যারা বিশ্বাস করে মাটির কাজ করেছেন তাদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ পড়ে গেছে। ইতোমধ্যেই তারা মুখ খুলতে শুরু করেছেন।