ধর্ম ডেস্করাসুলুল্লাহ (স.)-এর প্রতিটি কথা, কাজ ও আচরণ মুসলিম উম্মাহর জন্য আদর্শ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন- لَقَدۡ کَانَ لَکُمۡ فِیۡ رَسُوۡلِ اللّٰهِ اُسۡوَۃٌ حَسَنَۃٌ لِّمَنۡ کَانَ یَرۡجُوا اللّٰهَ وَ الۡیَوۡمَ الۡاٰخِرَ وَ ذَکَرَ اللّٰهَ کَثِیۡرًا ‘তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি বিশ্বাস রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে তাদের জন্য রাসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।’ (সুরা আহজাব: ২১)খাওয়া আমাদের জীবনের জন্য জরুরি প্রয়োজন। কী খাওয়া এবং কতটুকু খাওয়া উচিত, কোন হাতে কীভাবে খেতে হবে, কীভাবে বসতে হবে, কীভাবে বসা যাবে না—সব ব্যাপারে নবীজির সুন্নত রয়েছে। এসব সুন্নত মেনে চললে তা ইবাদতে পরিণত হবে। রাসুল (স.) বলেন, ‘মুমিনের সব কাজের জন্য প্রতিদান দেওয়া হয়, এমনকি নিজের মুখে খাবারের লোকমা তুলে নেওয়ার সময়ও। (মুসনাদে আহমদ: ১৫৩১) প্রিয়নবীজি (স.) বিনয়ের সঙ্গে বসে খাবার খেতেন। কারণ নেয়ামত গ্রহণের সময় মনিবের সামনে গোলামের ভঙ্গিতে বসাই বিনয়ের প্রকাশ। আমাদের প্রতি এমনটাই নবীজির শিক্ষা। নবীজি বলতেন- آكُلُ كَمَا يَأْكُلُ الْعَبْدُ، وَأَجْلِسُ كَمَا يَجْلِسُ الْعَبْدُ ‘গোলাম যেভাবে খায় আমিও সেভাবে খাব; গোলাম যেভাবে বসে আমিও সেভাবেই বসব।’ (মুসনাদে আবু ইয়ালা: ৪৯২০; মাজমাউজ জাওয়ায়েদ: ১৪২১০; শুআবুল ঈমান, বায়হাকি: ৫৫৭২ ২৯)একাধিক বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ (স.) অনেক সময় দুই হাঁটুর ওপর ভর করে বসে খাবার খেয়েছেন। আনাস (রা.) বলেন- رأيت النبي صلى الله عليه وسلم جالساً مقعياً يأكل تمراً ‘আমি নবীজিকে (স.) দুই হাঁটুর ওপর ভর করে ঝুঁকে বসে খেজুর খেতে দেখেছি। (সহিহ মুসলিম: ৫১৫৮)তবে, এই বর্ণনাটি কেবল খেজুর খাওয়ার ক্ষেত্রে পাওয়া যায়। খাবার খাওয়ার সর্বোত্তম সুন্নত পদ্ধতি হলো- দুই হাটু বিছিয়ে নামাজের মতো করে বসা। নবীজি এভাবে বসে খেতেন। ডান পা উঠিয়ে বাম পা বিছিয়ে খাওয়ার বর্ণনাটিও দুর্বল।আবদুল্লাহ ইবনে বুসর (রা.) বলেন, আমি নবী (স.)-কে একটি বকরি হাদিয়া দিলাম। রাসুলুল্লাহ (স.) তাঁর উভয় হাঁটু উঁচু করে বসে আহার করছিলেন। এক বেদুঈন বললো, এটা কী ধরনের বসা! তিনি বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা আমাকে অনুগ্রহপরায়ণ ও বিনয়ী বান্দা বানিয়েছেন, হিংসুক ও অহংকারী বানাননি। (ইবনে মাজাহ: ৩২৬৩)নবীজি (স.) কখনো টেবিলে খাননি। তাই আমরাও টেবিলে খাব না। তবে, টেবিলে খাওয়া ছাড়া উপায় না থাকলে টেবিলে খাওয়া যাবে। এটি অনুত্তম হলেও নাজায়েজ নয়। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন- كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ يَجْلِسُ عَلَى الْأَرْضِ، وَيَأْكُلُ عَلَى الْأَرْضِ ‘রাসুলুল্লাহ (স.) জমিনের উপর বসতেন এবং নিচে বসে খেতেন।’ (শুআবুল ঈমান, বায়হাকি: ৭৮৪৩; আলমুজামুল কাবির, তবারানি: ১২৪৯৪; মাজমাউজ জাওয়ায়েদ: ১৪২২২)নিচে বসে খাওয়ার একটি অর্থ- সমতল স্থানে খাওয়া। অর্থাৎ যেখানে বসা হয়েছে পাত্র (তার চেয়ে উঁচু কিছুতে না রেখে) সেখানেই রেখে খাওয়া। যেমন কেউ যদি খাটে বসে খান এবং খাটের উপরই পাত্র রাখেন তাহলে সেটাও নিচে বসে খাওয়ার মধ্যে গণ্য হবে। হেলান দিয়ে বা টেক লাগিয়ে বসা আদবের পরিপন্থী। আবু জুহাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবীজি (স.) বলেছেন- لاَ آكُلُ مُتّكِئًا ‘আমি টেক লাগিয়ে বা হেলান দিয়ে বসে খাই না।’ (সহিহ বুখারি: ৫৩৯৮)উপুড় হয়ে শুয়ে খাওয়াও ঠিক নয়। নবীজি (স.) উপুড় হয়ে খেতে নিষেধ করেছেন। তা স্বাস্থ্যসম্মতও নয়। হাদিস শরিফে এসেছে- نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ أَنْ يَأْكُلَ الرّجُلُ، وَهُوَ مُنْبَطِحٌ عَلَى وَجْهِهِ ‘রাসুলুল্লাহ (স.) উপুড় হয়ে খেতে নিষেধ করেছেন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩৩৭০; সুনানে আবু দাউদ: ৩৭৭৪) সুতরাং আমরা উপুড় হয়ে শুয়ে খাব না। হেলান দিয়ে বা টেক লাগিয়েও খাব না। তবে কারো ওজর থাকলে ভিন্ন কথা। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে খাওয়া-দাওয়াসহ সব বিষয়ে নবীজির সুন্নত মেনে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।
প্রকাশিত : বুধবার , ২৩ অক্টোবর ২০২৪ , সকাল ১১:০৫।।
প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার , ২ মার্চ ২০২৬ , সন্ধ্যা ০৭:২৬
খাওয়ার সময় যেভাবে বসতেন নবীজি
ধর্ম ডেস্করাসুলুল্লাহ (স.)-এর প্রতিটি কথা, কাজ ও আচরণ মুসলিম উম্মাহর জন্য আদর্শ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন- لَقَدۡ کَانَ لَکُمۡ فِیۡ رَسُوۡلِ اللّٰهِ اُسۡوَۃٌ حَسَنَۃٌ لِّمَنۡ کَانَ یَرۡجُوا اللّٰهَ وَ الۡیَوۡمَ الۡاٰخِرَ وَ ذَکَرَ اللّٰهَ کَثِیۡرًا ‘তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি বিশ্বাস রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে তাদের জন্য রাসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।’ (সুরা আহজাব: ২১)খাওয়া আমাদের জীবনের জন্য জরুরি প্রয়োজন। কী খাওয়া এবং কতটুকু খাওয়া উচিত, কোন হাতে কীভাবে খেতে হবে, কীভাবে বসতে হবে, কীভাবে বসা যাবে না—সব ব্যাপারে নবীজির সুন্নত রয়েছে। এসব সুন্নত মেনে চললে তা ইবাদতে পরিণত হবে। রাসুল (স.) বলেন, ‘মুমিনের সব কাজের জন্য প্রতিদান দেওয়া হয়, এমনকি নিজের মুখে খাবারের লোকমা তুলে নেওয়ার সময়ও। (মুসনাদে আহমদ: ১৫৩১) প্রিয়নবীজি (স.) বিনয়ের সঙ্গে বসে খাবার খেতেন। কারণ নেয়ামত গ্রহণের সময় মনিবের সামনে গোলামের ভঙ্গিতে বসাই বিনয়ের প্রকাশ। আমাদের প্রতি এমনটাই নবীজির শিক্ষা। নবীজি বলতেন- آكُلُ كَمَا يَأْكُلُ الْعَبْدُ، وَأَجْلِسُ كَمَا يَجْلِسُ الْعَبْدُ ‘গোলাম যেভাবে খায় আমিও সেভাবে খাব; গোলাম যেভাবে বসে আমিও সেভাবেই বসব।’ (মুসনাদে আবু ইয়ালা: ৪৯২০; মাজমাউজ জাওয়ায়েদ: ১৪২১০; শুআবুল ঈমান, বায়হাকি: ৫৫৭২ ২৯)একাধিক বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ (স.) অনেক সময় দুই হাঁটুর ওপর ভর করে বসে খাবার খেয়েছেন। আনাস (রা.) বলেন- رأيت النبي صلى الله عليه وسلم جالساً مقعياً يأكل تمراً ‘আমি নবীজিকে (স.) দুই হাঁটুর ওপর ভর করে ঝুঁকে বসে খেজুর খেতে দেখেছি। (সহিহ মুসলিম: ৫১৫৮)তবে, এই বর্ণনাটি কেবল খেজুর খাওয়ার ক্ষেত্রে পাওয়া যায়। খাবার খাওয়ার সর্বোত্তম সুন্নত পদ্ধতি হলো- দুই হাটু বিছিয়ে নামাজের মতো করে বসা। নবীজি এভাবে বসে খেতেন। ডান পা উঠিয়ে বাম পা বিছিয়ে খাওয়ার বর্ণনাটিও দুর্বল।আবদুল্লাহ ইবনে বুসর (রা.) বলেন, আমি নবী (স.)-কে একটি বকরি হাদিয়া দিলাম। রাসুলুল্লাহ (স.) তাঁর উভয় হাঁটু উঁচু করে বসে আহার করছিলেন। এক বেদুঈন বললো, এটা কী ধরনের বসা! তিনি বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা আমাকে অনুগ্রহপরায়ণ ও বিনয়ী বান্দা বানিয়েছেন, হিংসুক ও অহংকারী বানাননি। (ইবনে মাজাহ: ৩২৬৩)নবীজি (স.) কখনো টেবিলে খাননি। তাই আমরাও টেবিলে খাব না। তবে, টেবিলে খাওয়া ছাড়া উপায় না থাকলে টেবিলে খাওয়া যাবে। এটি অনুত্তম হলেও নাজায়েজ নয়। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন- كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ يَجْلِسُ عَلَى الْأَرْضِ، وَيَأْكُلُ عَلَى الْأَرْضِ ‘রাসুলুল্লাহ (স.) জমিনের উপর বসতেন এবং নিচে বসে খেতেন।’ (শুআবুল ঈমান, বায়হাকি: ৭৮৪৩; আলমুজামুল কাবির, তবারানি: ১২৪৯৪; মাজমাউজ জাওয়ায়েদ: ১৪২২২)নিচে বসে খাওয়ার একটি অর্থ- সমতল স্থানে খাওয়া। অর্থাৎ যেখানে বসা হয়েছে পাত্র (তার চেয়ে উঁচু কিছুতে না রেখে) সেখানেই রেখে খাওয়া। যেমন কেউ যদি খাটে বসে খান এবং খাটের উপরই পাত্র রাখেন তাহলে সেটাও নিচে বসে খাওয়ার মধ্যে গণ্য হবে। হেলান দিয়ে বা টেক লাগিয়ে বসা আদবের পরিপন্থী। আবু জুহাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবীজি (স.) বলেছেন- لاَ آكُلُ مُتّكِئًا ‘আমি টেক লাগিয়ে বা হেলান দিয়ে বসে খাই না।’ (সহিহ বুখারি: ৫৩৯৮)উপুড় হয়ে শুয়ে খাওয়াও ঠিক নয়। নবীজি (স.) উপুড় হয়ে খেতে নিষেধ করেছেন। তা স্বাস্থ্যসম্মতও নয়। হাদিস শরিফে এসেছে- نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ أَنْ يَأْكُلَ الرّجُلُ، وَهُوَ مُنْبَطِحٌ عَلَى وَجْهِهِ ‘রাসুলুল্লাহ (স.) উপুড় হয়ে খেতে নিষেধ করেছেন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩৩৭০; সুনানে আবু দাউদ: ৩৭৭৪) সুতরাং আমরা উপুড় হয়ে শুয়ে খাব না। হেলান দিয়ে বা টেক লাগিয়েও খাব না। তবে কারো ওজর থাকলে ভিন্ন কথা। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে খাওয়া-দাওয়াসহ সব বিষয়ে নবীজির সুন্নত মেনে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।