প্রকাশিত : মঙ্গলবার , ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ , সকাল ০৮:৫৯।। প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার , ২ মার্চ ২০২৬ , রাত ১১:৪৫

দুপচাঁচিয়ায় দু'ঘণ্টার বাজারে বেচা-কেনা হয় ৪০-৫০হাজার লিটার খাঁটি গরুর দুধ।


# দু'ঘণ্টা বাজারে ৪০-৫০ হাজার লিটার দুধের আমদানি হয়। # লিটার পরিমাপের ব্যবস্থা নেই,কেজি হিসেবে দুধ বিক্রয় হয়। # ভ্রাম্যমান ল্যাব টেস্টিং এর ব্যবস্থা থাকলে আরো ভালো মানের দুধ পাওয়া যেত। উজ্জ্বল চক্রবর্ত্তী শিশির, দুপচাঁচিয়া (বগুড়া): বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা সদরে সিও অফিস বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ঊষা প্লাজার মার্কেটের সামনে ও যাত্রী ছাউনি পাশে প্রতিদিন ৪০-৫০হাজার লিটার দুধ কেনা-বেচা হয়। বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় প্রতিদিন ২ ঘন্টার জন্য বসে খাঁটি গরুর দুধের বাজার। সকাল ৭ টা হইতে ৯টা পর্যন্ত শতাধিক সাইকেল ও ভ্যানে করে ভরে আনে লিটারে লিটারে খাঁটি গরুর দুধ। ঘন্টা দুয়েকের মধ্যে বেচাকেনা হয় কয়েকশ লিটার দুধ। কিনে নিয়ে যায় এই এলাকার ঘোষ ও মিষ্টান্ন ভান্ডারের কারিগরেরা। সকালে মাত্র দুই ঘন্টার বাজারটি বসে দুপচাঁচিয়া সি অফিস বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন ঊষা প্লাজা মার্কেটের সামনে। এরপর বিকেলে দুধের বাজার বসে বাস স্ট্যান্ড যাত্রী ছাউনির সংলগ্ন এলাকায় ও দুপচাঁচিয়া পুরাতন বাজারে।বিশেষ করে এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা যেমন: চৌমুহনী, তালোড়ার, খুনিহারার দই ও মিষ্টির কারখানার ব্যবসায়ী সহ দুপচাঁচিয়া বাজারের ৪-৫টি সুনামধন্য ঘোষেরা এসব দূধ কিনে থাকে। এক একটি ভ্যানে চার থেকে পাঁচটি করে ২০-৩০ লিটারের কন্টেইনার ভরে দুধ কিনে নিয়ে যায়। প্রতিদিন দুধ কিনার জন্য তাঁরা খুব সকালে দূরদূরান্ত থেকে শতাধিক  কারখানার মালিকেরা দুধ কিনতে আসে দুপচাঁচিয়া সদরে। সরজমিনে দুধ বাজারে পলাশ ঘোষের সঙ্গে কথা বলে জানায়, তিনি প্রতিদিন ২২০-২৫০কেজি কিনে দই ও মিষ্টির কাজ করেন। এরপর আরেকজন দুধ কিনতে আসা জয়দেব ঘোষ জানায়, তিনি প্রতিদিন ১৬০ কেজি -১৮০কেজি দুধ কিনে দই ও মিষ্টির কাজ করে থাকি।দুধের বাজার মনিটরিং ব্যাপারে খাদ্য পরিদর্শক মমতা রানী সাহা জানান,খাঁটি দুধের মান  পরীক্ষা করার জন্য এখানে ভ্রাম্যমান ল্যাব টেস্টিং এর প্রয়োজন।যেহেতু ভ্রাম্যমান ল্যাব টেস্টিং করতে হলে আমাদেরকে রাজশাহীতে অবহিত করতে হয়, দুপচাঁচিয়া তে ভোর হইতে সকাল ৮টা মধ্যে দুধের বাজার কেনা- বেচা  হয়ে যায় যার জন্য ভ্রাম্যমাণ ল্যাব টেস্টিং দিয়ে দুধের পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না বিধায় দুধে পানি মিশানোর ব্যারোমিটার দিয়ে পরীক্ষা করতে হয়। বাজারে ভেজাল দুধ থাকলে, সঙ্গে সঙ্গে এসব ভেজাল দুধ ড্রেনে ফেলে দিয়ে তাদেরকে সতর্ক করে দেওয়া হয়। তাই ঘোষরা ও মিষ্টির কারিগরেরা খাঁটি গরুর দুধ কিনতে স্বাচ্ছন্দ বোধ মনে করে। দুপচাঁচিয়া এই দুধের বাজার শুধু একটি ব্যবসায়িক কেন্দ্র নয় বরং এটি স্থানীয় কৃষক, খামারি ও ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির প্রতীক। দুপচাঁচিয়ায় মিষ্টি ও দই শিল্পের চাহিদা মিটানোর পাশাপাশি এই অঞ্চলের  আশেপাশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ভবিষ্যতে আরোও উন্নত ব্যবস্থাপনায় ও আধুনিক সংযোগ যুক্ত হলে এটি জেলার অন্যতম রোল মডেল হয়ে উঠতে পারে।