প্রকাশিত : মঙ্গলবার , ১৩ মে ২০২৫ , সকাল ১০:১৫।। প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার , ২ মার্চ ২০২৬ , সন্ধ্যা ০৭:৫০

জন ভোগান্তির আরেক নাম কুমুদিনী হাসপাতাল খেয়াঘাট


মো: মিজানুর রহমান, জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল:  প্রতিদিন হাজারও লোকের যাতায়াত এই খেয়াঘাট ধরে।এর মধ্যে বেশ কিছু সংখ্যক রোগীও থাকেন। খেয়া ঘাটের এই যাতাকলে পড়ে তাদের শুধু নিদারুন কষ্টই হয় না, রীতিমতো মানবতাও হয় ভুলুন্ঠিত। বর্ষার শুরুতে বাঁশের সাঁকোটি প্রতিবছরই প্রবল পানির স্রোতে হঠাৎ ভেঙে যায়। তখন মানুষের ভোগান্তির শেষ থাকে না। প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও সেরকমটিই  হয়েছে। অনেক কষ্টে চাপা ক্ষোভ বুকে নিয়ে বিকল্প পথে  মানুষ চলাফেরা করছে।স্কুলগামী ছেলে মেয়েদের অভিভাবকগণ দারুন উৎকণ্ঠায়  দিন কাটাচ্ছে। তারা এইভেবে হতাশ যে, তাদের অতি আদরের সন্তানটি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কিভাবে স্কুলে যাতায়াত করবে। একটি ঘটনার মাধ্যমে সামান্য বোঝানোর চেষ্টা করব। বেশ ক'বছর আগের ঘটনা। একদিন বাজারের ব্যাগহাতে বাড়ি ফিরছিলাম। কুমুদিনী হাসপাতাল খেয়া ঘাটের দক্ষিণ পাশে পৌঁছুতেই দেখি ডেলিভারি সম্ভবা এক মায়ের আর্ত চিৎকারে আকাশ বাতাস ভারী হচ্ছে।কতটা কষ্ট হচ্ছিল সেই মায়ের আমি ঠিক বলে বুঝাতে পারবো না। সাথে দু'জন মহিলা আর ভ্যান চালক একা। এই তিনজনের পক্ষে নদী পার করে রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছানো কিছুতেই সম্ভব ছিল না। হাতের ব্যাগ মাটিতে ফেলে দিলাম, একটু দূরেই কয়েকজন লেবার দুপুরের খাবার খেয়ে গামছায় হাত মুছছিল। তাদের দ্রুত ডেকে এনে ভ্যান সহ রোগীকে কুমুদিনী হাসপাতালে পৌঁছে দিলাম। এরকম ঘটনা ঘর হামেশাই ঘটে এখানে। এখানে নৌকাডুবিতে প্রাণহানিরমতো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনাও ঘটেছে বেশ কয়েকবার। কথায় আছে যার যায় সেই কেবল বুঝে। নদী শাসনের ফলে সামনে বর্ষার ভরা মৌসুমে লৌহজং হবে প্রবল খরস্রোতা। যেখানে নৌকা সামাল দেয়া হবে ভারি কষ্টকর।নৌকা ডুবির মতো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় যদি আর একটি প্রাণ যায়, এর দায়ভার নেবে কে? এলাকার লোকজনের দীর্ঘদিনের দাবি লৌহজং নদীর উপর একটি ব্রীজ নির্মিত হবে, এলাকার লোকজন অনায়াসে নদী পার হবে। তারা আরোও বলেন, দানবীর রনদা প্রসাদ সাহা জীবিত থাকলে অনেক আগেই এখানে ব্রিজ নির্মিত হতো। কোন অজ্ঞাত কারণে আজও লৌহজং নদীর উপর ব্রিজ হচ্ছে না কেউ তা সঠিকভাবে বলতে পারেনা। কেউ কেউ বলছে কুমুদিনী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ  এখানে ব্রিজ হতে দিচ্ছে না আবার কেউ বলছে সাহাপাড়ার হিন্দু সম্প্রদায় এখানে বীজ হতে বাঁধা দিচ্ছে। কারণ যাই হোক, দানবীর রনদাপ্রসাদ সাহার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে কুমুদিনী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সদয় হয়ে লৌহজং নদীর উপর একটি ব্রিজ নির্মাণ করার অনুমতি দেবে এলাকা বাসীর দৃঢ় প্রত্যাশা এটি।