বগুড়া প্রতিনিধি:বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার চরাঞ্চলে যমুনা নদীর তীব্র ভাঙন এলাকাবাসীর দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। তবে আশার কথা, মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বগুড়া জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হোসনা আফরোজা ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি সারিয়াকান্দির চালুয়াবাড়ী ইউনিয়নের মানিকদাইড় এলাকা ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেন।দ্রুত পদক্ষেপ ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে চিঠিপরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা নদীভাঙন রোধে চলমান ব্যবস্থাগুলো পর্যালোচনা করেন। তিনি নির্দেশনা দেন, যেসব পয়েন্ট ঝুঁকির মধ্যে আছে, সেখানে যেন দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানো হয়। একইসঙ্গে, এলাকার মানুষকে নদীভাঙনের কবল থেকে বাঁচাতে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি, যমুনার মানিকদাইড় অংশে একটি স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ। জেলা প্রশাসক এই দাবিকে অত্যন্ত জরুরি উল্লেখ করে জানান, এ বিষয়ে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার কাছে একটি লিখিত আবেদন পাঠানো হবে। তাঁর এই ঘোষণা চরাঞ্চলবাসীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে জেলা প্রশাসনপরিদর্শনের আগে মঙ্গলবার (৮ জুলাই) সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা সারিয়াকান্দি পৌরসভা কার্যালয়ে পৌঁছান। সেখানে তাকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক শাহরিয়ার রহমান ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। এরপর জেলা প্রশাসক প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত দুঃস্থ ব্যক্তিদের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। জেলা প্রশাসনের এই মানবিক সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তি নিয়ে এসেছে।গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিপরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মাসুদ হোসেন, সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহরিয়ার রহমান, বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হুমায়ন কবির এবং সারিয়াকান্দি পানি উন্নয়ন শাখা-১ এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল মালেক।এছাড়াও, সদ্য গঠিত যমুনা নদী ভাঙন প্রতিরোধ আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, সদস্য সচিব রওশানুল কাওছার মানিক, বিএনপি নেতা মহিদুল ইসলাম, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল যুগ্ম আহ্বায়ক এস.এম. মেহেদী হাসান হীরা, বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি রাশেদ হাসান, বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বিপ্লব মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি এবং সাংবাদিকসহ এলাকার সর্বস্তরের জনগণ উপস্থিত ছিলেন।স্থায়ী বাঁধের দীর্ঘদিনের দাবিউল্লেখ্য, চরাঞ্চলের মানুষের জীবন রক্ষায় যমুনা নদীর মানিকদাইড় অংশে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। এই দাবিতে গত সোমবার (৭ জুলাই) যমুনা নদী ভাঙন প্রতিরোধ ও বেড়িবাঁধ বাস্তবায়ন কমিটির নেতৃবৃন্দ বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি লিখিত আবেদনপত্র জমা দিয়েছিলেন। সেসময় জেলা প্রশাসক তাদের সরেজমিনে পরিদর্শনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যা তিনি ৮ জুলাই পালন করেন। "ভাঙন ঠেকাও, চরের মানুষ বাঁচাও" স্লোগান নিয়ে এই অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। জেলা প্রশাসকের এবারের পরিদর্শন ও স্থায়ী বাঁধের বিষয়ে আশ্বাস এই দাবি বাস্তবায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রকাশিত : সোমবার , ৩০ জুন ২০২৫ , বিকাল ০৩:৪২।।
প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার , ২ মার্চ ২০২৬ , সন্ধ্যা ০৭:৫০
যমুনার ভাঙনে দিশেহারা সারিয়াকান্দি: জেলা প্রশাসকের পরিদর্শন, স্থায়ী বাঁধের আশ্বাস
বগুড়া প্রতিনিধি:বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার চরাঞ্চলে যমুনা নদীর তীব্র ভাঙন এলাকাবাসীর দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। তবে আশার কথা, মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বগুড়া জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হোসনা আফরোজা ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি সারিয়াকান্দির চালুয়াবাড়ী ইউনিয়নের মানিকদাইড় এলাকা ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেন।দ্রুত পদক্ষেপ ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে চিঠিপরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা নদীভাঙন রোধে চলমান ব্যবস্থাগুলো পর্যালোচনা করেন। তিনি নির্দেশনা দেন, যেসব পয়েন্ট ঝুঁকির মধ্যে আছে, সেখানে যেন দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানো হয়। একইসঙ্গে, এলাকার মানুষকে নদীভাঙনের কবল থেকে বাঁচাতে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি, যমুনার মানিকদাইড় অংশে একটি স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ। জেলা প্রশাসক এই দাবিকে অত্যন্ত জরুরি উল্লেখ করে জানান, এ বিষয়ে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার কাছে একটি লিখিত আবেদন পাঠানো হবে। তাঁর এই ঘোষণা চরাঞ্চলবাসীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে জেলা প্রশাসনপরিদর্শনের আগে মঙ্গলবার (৮ জুলাই) সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা সারিয়াকান্দি পৌরসভা কার্যালয়ে পৌঁছান। সেখানে তাকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক শাহরিয়ার রহমান ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। এরপর জেলা প্রশাসক প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত দুঃস্থ ব্যক্তিদের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। জেলা প্রশাসনের এই মানবিক সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তি নিয়ে এসেছে।গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিপরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মাসুদ হোসেন, সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহরিয়ার রহমান, বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হুমায়ন কবির এবং সারিয়াকান্দি পানি উন্নয়ন শাখা-১ এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল মালেক।এছাড়াও, সদ্য গঠিত যমুনা নদী ভাঙন প্রতিরোধ আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, সদস্য সচিব রওশানুল কাওছার মানিক, বিএনপি নেতা মহিদুল ইসলাম, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল যুগ্ম আহ্বায়ক এস.এম. মেহেদী হাসান হীরা, বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি রাশেদ হাসান, বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বিপ্লব মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি এবং সাংবাদিকসহ এলাকার সর্বস্তরের জনগণ উপস্থিত ছিলেন।স্থায়ী বাঁধের দীর্ঘদিনের দাবিউল্লেখ্য, চরাঞ্চলের মানুষের জীবন রক্ষায় যমুনা নদীর মানিকদাইড় অংশে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। এই দাবিতে গত সোমবার (৭ জুলাই) যমুনা নদী ভাঙন প্রতিরোধ ও বেড়িবাঁধ বাস্তবায়ন কমিটির নেতৃবৃন্দ বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি লিখিত আবেদনপত্র জমা দিয়েছিলেন। সেসময় জেলা প্রশাসক তাদের সরেজমিনে পরিদর্শনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যা তিনি ৮ জুলাই পালন করেন। "ভাঙন ঠেকাও, চরের মানুষ বাঁচাও" স্লোগান নিয়ে এই অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। জেলা প্রশাসকের এবারের পরিদর্শন ও স্থায়ী বাঁধের বিষয়ে আশ্বাস এই দাবি বাস্তবায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।