• ঢাকা
  • সোমবার , ২ মার্চ ২০২৬ , দুপুর ০২:১৮
  • ১৮ ফাল্গুন, ১৪৩২
ব্রেকিং নিউজ
হোম / রাজনীতি

কাজিপুরের সাবেক এমপি জয় ও উপজেলা চেয়ারম্যান খলিলের দুর্নীতিনামা-০১

রিপোর্টার : dailyajkerjanobani
কাজিপুরের সাবেক এমপি জয় ও উপজেলা চেয়ারম্যান খলিলের দুর্নীতিনামা-০১ ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ

স্টাফ রিপোর্টারঃ নৌকার ঘঁটিখ্যাত সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলা সিরাজগঞ্জ সদরের ইউনিয়ন নিয়ে সংসদীয় আসন সিরাজগঞ্জ- এর সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয়   কাজিপুর উপজেলা চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানের দুর্নীতির আমলনামা প্রকাশিত হতে শুরু করেছে।  নৌকাপাগল কাজিপুরের মানুষকে বিপদে রেখে  এমপি জয় তার সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে পালিয়েছেন। অথচ এই কাজিপুরের মাটিও নৌকার কথা বলে। আর সেই মাটি থেকে যারা পালিয়ে যায় তাদের বিষয়ে সাধারণ মানুষের ধ্যাণ ধারণা পাল্টাতে শুরু করেছে। কেউ কেউ একসময় তার ফেসবুকে প্রিয় অভিভাবক লিখে জয় অথবা খলিলের ছবি দিতেও দ্বিধা করেনি। এতেই বোঝা যায় তাদের কতটা বিশ্বাস সাধারণ মানুষ করেছিলো। আর তাদেরই কিনা বিপদে ফেলে নিজেদের কৃত পাপের হিসেব না দিতেই লাপাত্তা হয়েছেন সেই তথাকথিত প্রিয় অভিভাবকদ্বয়।  আর কারণে ক্ষুব্ধ সাধারণ কাজিপুরবাসী জয় এবং খলিলের আমলনামা বানাতে শুরু করেছেন। তাদের দৃষ্টিতে এই দুইজনের আমলনামা কেমন ছিলো তাই বিশ্লেষণের চেষ্টা করে তুলে ধরছে জাতীয় দৈনিক আজকের জনবাণী।

 

. আমরা জানিনা এমপির বরাদ্দ কত আসে। যাই আসুক না কেনো সেই  সরকারী বরাদ্দ জনগণকে না জানিয়ে অতি গোপনে নিজ পকেটে ভরতেন জয়। শেষের দিকে এসে এই কাজগুলো এক প্রকার ওপেন সিক্রেট হয়ে পড়েছিলো। নির্বাচনের পূর্বে প্রতিটি ইউনিয়নের ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগের ওয়ার্ডের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের নামে ৫০ হাজার করে টাকা বরাদ্দ দেন সাবেক এমপি জয়। তাদের বলে দেয়া হয় এই টাকার কোন কাজ করতে হবে না। ফলে নাম সর্বস্ব প্রকল্প বানিয়ে সেই টাকা তুলে নিয়েছেন কমিটির লোকজন। এর সত্যতা উপজেলা পিআইও অফিসে গেলে মিলবে। এসবের ফলে এলাকার মানুষ উন্নয়ন বঞ্চিত হয়েছেন। 

. উপজেলা পরিষদে সরকারিভাবে যেসব বরাদ্দ আসতো তা  ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে সুষ্ঠুভাবে পুরোটাই বন্ঠন করা হতো না। একটি পা চাটা দুষ্ট μের মাধ্যমে নামে বেনামে গোপন প্রকল্প গ্রহণ করে সেসব অর্থ দিনের পর দিন হাতিয়ে নিতো জয় খলিল। এমনও হয়েছে, একই জায়গায় এক প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ করে সেখানে আরও কয়েকটি প্রকল্প দেখিয়ে পুরো টাকা মেরে দেয়া হয়েছে। এসব কাজ হালাল করার জন্যে ইউনিয়নের  চেয়ারম্যানদের ডেকে ওই দুইজন মিটিং করতো ঠিকই। এবং সেখানে চেয়ারম্যানদের নিকট থেকে শুধুমাত্র সাক্ষর নিয়ে দুস্কর্ম জায়েজ করা হয়। আর চেয়ারম্যানগণ ভোটছাড়া নির্বাচিত বিধায় নিজেদের আখেরের কথা ভেেেব জয় খলিল সিন্ডিকেটের ভয়ে সত্য প্রকাশ করতে পারতেন না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন সবকিছু জেনেও তারা নিশ্চুপ থেকেছেন। কিছু বললেই সংস্কারপন্থী বলে সেই চেয়ারম্যানদের হুমকী ধামকি দেয়া হতো। আর এভাবেই বিগত দিনগুলোতে ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে অকার্যকর করা হয়।

. উপজেলাধীন হাট-বাজার, বালিমহাল, সিন্ডিকেট করে নামমাত্র মূল্যে ইজারা দিয়ে কিছু টাউট বাটপারকে প্রশ্রয় দিতো জয় খলিল।  বিগত অর্থবছরে পুরো উপজেলায় শুধুমাত্র একজনের নামে বালিমহালের ডাক হয় এবং মাত্র বিশটি পয়েটে বালি রাখার জন্য নির্ধারণ করে দেয়া হয়। অথচ পুরো সিস্টেমকে বুড়ো আঙল দেখিয়ে উপজেলার প্রায় ৫৭ টি স্থানে বালি উত্তোলন মজুদ গড়ে তোলা হয়। নিয়ে কিছু সময়ে সাংবাদিকদের সংবাদ প্রকাশের পরে প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করেছেন। কিন্তু তাতেও হস্তক্ষেপ করতেন জয় খলিল। উপজেলার সোনামুখীর ফরিদুল ইসলাম বাবু মেম্বর আওয়ামী লীগ নেতা  আবাদি জমি থেকে ইছামতির তীর ঘেঁষে মাটি বালি উত্তোলন করে বিক্রি করা শুরু করে। সেখানে সাবেক এসিল্যান্ড অভিযান চালিয়ে বাবু মেম্বরকে অর্থদন্ড দেন। কিন্তু কিছুদিন পরে সেই এসিল্যান্ডকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আবারো একই কাজ করার অনুমতি দেন জয় খলিল।

 কাজিপুর থানার দক্ষিণ উত্তরপাশে গড়ে তোলা হয়েছে বালির পাহাড়। কিন্তু কিছুই বলতে পারতেন না থানার লোকজন। কারণ জয় খলিলের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এসব ব্যবসা চলতো। কেউ কিছু বলার চেষ্টা করলেই তাকে শাস্তির মুখে পড়তে হতো। এই কাজ করতে গিয়ে বালির পানি গড়িয়ে নদী তীর সংরক্ষণ কাজের বোল্ডারগুলো ধসে গিয়ে গত বছর কাজিপুর থানার সামনে ভাঙন শুরু হয়েছিলো।  অনেক চেষ্টার পরে তা রোধ করা সম্ভব হয়েছে। শুধু তাই নয় উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগের দলীয় লোকজন এসব বালির ব্যবসা করতেন। আর ডাকের টাকা পরিশোধের পরেও  প্রতিটি বালি পয়েন্ট থেকে একটা নির্দিষ্ট অংকের টাকা জয় খলিলের পকেটে যেতো বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই জানিয়েছেন। এসব বালির পাহাড়ের কারণে কাজিপুরের পরিবেশ যেমন দুষিত হয়ে পড়েছে, তেমনি রাস্তা-ঘাটেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে আর প্রায় প্রতিমাসেই বালিবাহী ট্রাকের চাকায় ধাক্কায় পিষ্ট হয়ে অনেকগুলো মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও ভুক্তভোগিরা  কোন মামলা করতে পারতেন না। কিছু টাকা দিয়ে দফা রফা করে ফেলতেন খলিল সাহেব। আর থানায় ফোন করে মামলা না নেয়ার ব্যবস্থা করতেন সাবেক এমপি জয় সাহেব।

 বালিখেকোরা এতোটাই বেপরোয়া হয়ে ওঠেন যে, তারা নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে স্থাণীয়ভাবে ক্যাডার বাহিনী পোষে। সাধারণ জনগণ কিছু বললেই এসব ক্যাডাররা তাদের ধরে এনে নির্যাতন করতো। এরকম ঘটনার অনেকগুলো মাইজবাড়ি ইউনিয়নের ঢেকুরিয়া বাজারে ঘটেছে। যারা এর সত্যতা জানতে চান তারা সেখানে গেলেই পাবেন এর সত্যতা। সেখানকার গডফাদার সোহেল রানা মিঠু, সালাম মেম্বর, লুৎফর রহমান মুকুল, শরিফুল ইসলাম, সুলতান মেম্বর। তাদের  হাতে রয়েছে বিশেষ একটি বাহিনী। তারাই বালিমহালের বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নেয় তাদের শায়েস্তা করে। আবার মেঘাই পয়েন্টে বিপ্লব সরকার, কামরুজ্জামান বিপ্লব, আওয়াল মেম্বর তাদের লোকজন চালায় সিন্ডিকেট। দক্ষিণে রয়েছে পারভেজ, আলী আসলাম, জুয়েলসহ আরও সব বাহিনী।  নাটুয়ারপাড়াসহ চরাঞ্চলের গডফাদার আব্দুর রহিম তার লোকজন। তাদের সবার গুরু খলিল সাহেব আর প্রশ্রয়দাতা সাবেক এমপি জয় সাহেব। সিংহভাগ সুবিধা উল্লেখিত দুজন ব্যক্তি ভোগ করতেন। 

. মাদকে সয়লাব কাজিপুরের জনপদ। উত্তরবঙ্গ দিয়ে দেশে প্রবেশ করা অধিকাংশ মাদক কাজিপুর হয়ে ঢাকা পর্যন্ত পাচার হতো। ঢেকুরিয়া, মাইজজবাড়ী, মেঘাই, খুদবান্দি, শুভগাছা নদীর ঘাট দিয়ে মাদক যেতো নদীপথে নাটুয়ারপাড়ায়। বলা হয় মাদকের রাজধানী কাজিপুরের নাটুয়ারপাড়া। সেখানে এসবের সমন্বয় করেন রহিমসহ আরও বেশ কয়েকটি ছোট ছোট দল উপদল। এসব পাচার কাজে বিভিন্ন সময়ে সাবেক এমপি জয় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খলিল সাহেবের সরকারি গাড়ী পর্যন্ত ব্যবহার করা হতো। এতে করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কিছুই টের পেতো না। পাচারকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে ইয়াবা, বাবা, দেশী বিদেশী মদ, ফেন্সিডিল, গাঁজাসহ নতুন আরও অনেককিছু। থানা পুলিশ নিয়মিত কিছু চিহ্নিত মাদক কারবারিকে মাঝে মধ্যেই ধরে জেলে ভরতেন। কিন্তু ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতেন মূল চোরাচালানকারিগণ। মাদকের চালান লেনদেন টাকা পয়সা নিয়ে ঝামেলার জন্যে একাধিকবার নিজেদের মধ্যে মারামারিতে জড়িয়েছে অনেক পান্ডারা। কিন্তু কখনই এসব নিয়ে মামলা হতে দেননি জয় খলিল। উপজেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ছাত্রলীগের অনেক নেতাই মাদক সেবন পাচার কাজের সাথে সম্পৃক্ত ছিল। মাদক ব্যবসা এমনকি চোরাচালানের লভ্যাংশ এই দুজন পেতেন।

. উপজেলা পর্যায়ের সকল ধরনের নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন দলীয় পদ বন্ঠন করে, মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহণ করতেন জয় খলিল। এই বাণিজ্যে জয় এমনও বেপরোয়া যে নাসিম সাহেব জীবিত থাকাকালিন সময়ে তিনি একটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী একজনকে ডেকে নিয়ে ঘোষণা দেন। দলীয় অনেক নেতাকর্মি এই বিষয়টি রাতেই জেনে যায় যে কে হচ্ছেন সেই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী। অথচ পরদিন সকালে সবাই অবাক হয়ে লক্ষ্যে করলেন  মোহাম্মদ নাসিম ঘোষিত প্রার্থী পাল্টে গেছে। পক্ষান্তরে রাতের আঁধারে ব্লাঙ্ক চেক নিয়ে জয় খলিল ইচ্ছেমতো টাকার অংক বসিয়ে নাসিম সাহেবের মনোনীত প্রার্থী পরিবর্তন করে চূড়ান্ত কমিটির নিকট তালিকা প্রদান করে। এই ঘটনা কাজিপুরেরর অনেকেই জানেন। এমনি করে যিনি বেশি মাল দিতে পারতেন তিনিই পেতেই সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে নৌকার টিকিট। এভাবে দুই মেয়াদে নিয়োগ দিয়ে কয়েক কোটি টাকা জয় খলিল হাতিয়ে নিয়েছেন। (চলবে

সোর্স : সারাবাংলা


সারাবাংলা

আরও পড়ুন