• ঢাকা
  • সোমবার , ২ মার্চ ২০২৬ , সকাল ০৬:৩১
  • ১৮ ফাল্গুন, ১৪৩২
ব্রেকিং নিউজ
হোম / সারাদেশ

রংপুর অঞ্চলে কৃষকের ঘরে আসবে আড়াই হাজার কোটি টাকা

রিপোর্টার : dailyajkerjanobani
রংপুর অঞ্চলে কৃষকের ঘরে আসবে আড়াই হাজার কোটি টাকা ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ

মোঃ আফফান হোসাইন আজমীর, রংপুর প্রতিনিধি:

রংপুর অঞ্চলে আগাম ধান এবং খড়ের দাম প্রায় সমান হওয়ায় কৃষক আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। ধান এবং খড় বিক্রি করে রংপুর অঞ্চলের কৃষকদের ঘরে উঠবে আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি। চলিত মৌসুমে রংপুর বিভাগের ৫ জেলায় প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার আগাম আমন ধান উৎপাদন হয়েছে। একই ধানের খড় বিক্রি করে কৃষকদের বাড়তি আয় হবে আরও ৪০০ কোটি টাকার বেশি।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা ও নীলফামারী জেলায় বিনা-৭ ব্রি -৩৩, ৩৯, ৫৬, ৫৭ও ৬২, ৭১.৭৫, ৮৭, ১০৩ সহ হাইব্রিড ধান উৎপাদন হয়েছে এক লাখ হেক্টরের বেশি। বিনা -৭ ও -১৭ ধানও হচ্ছে এই সময়ে। ১২০ দিনের মধ্যে এসব ধান ধরে তোলা যায়।

কৃষি অফিসের তথ্য মতে এ পর্যন্ত ২৫ হাজার হেক্টর জমির ধান কেটে কৃষকরা ঘরে তুলেছেন। বলা চলে এই অঞ্চলে এখন আগাম ধান কাটা মাড়াইয়ের পুরো মৌসুম চলছে। ফলন হয়েছে প্রতি হেক্টরে গড়ে প্রায় ৪ মেট্রিক টন। এই পরিমান জমি থেকে ৪ লাখ মেট্রিক টনের বেশি ধান উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। এই অঞ্চলের ৫ জেলায় সোয়া ৬ লাখ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে আগাম ধান রয়েছে একলাখ হেক্টরের ওপরে। বাজারে প্রতিমন ধান বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত। সেই হিসাবে এক টন ধানের দাম ৩৫ হাজার টাকা। ওই হিসেবে ৪ লাখ মেট্রিক টন ধানের দাম হচ্ছে এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা। বাজারে দামও বেশ ভালো থাকায় কৃষকরা রয়েছে বেশ চাঙ্গা ভাবে।

অপরদিকে ২৪ শতক (এক দোন) জমিতে খড় পাওয়া যাচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ আটি। সেই হিসেবে এক একর জমিতে ২ হাজার আটি। এক হেক্টরে সাড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার খড়ের আটি পাওয়া যাবে। আটি প্রতিহাজার বিক্রি হচ্ছে ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা করে। সেই হিসেবে প্রিিত হেক্টরে আটি বিক্রি করে কৃষকদের আয় হবে ৩০ থেকে ৩৪ হাজার টাকা। সেই হিসেবে এক লাখ জেক্টরে ধানের আটি বিক্রি করে আয় প্রায় ৪০০ কোটি টাকার বেশি।

কৃষি অফিস জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষিক্ষেত্রে নিত্য নতুন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এজন্য জলবায়ুর প্রতিঘাট সহনশীল জাতগুলো চাষের প্রতি বেশি জোর দেয়া হয়েছে। উচ্চ ফলনশীল ও খরা সহিষ্ণু বিনাধান-১৭ স্বল্পজীবন মেয়াদী হওয়ার এ ধান কেটে এ অঞ্চলের কৃষকরা সহজেই গম-সরিষা বা আলু আবাদে যেতে পারবেন। বিনাধান-১৭ উচ্চ ফলনশীল এবং জীবনকাল কম হওয়ায় শস্যেও নিবিড়তা বাড়ানোর জন্য খুবই কার্যকর। অন্য জাতের তুলনায় এ জাত চাষে প্রায় শতকরা ৩০ ভাগ কম সার ও সেচ লাগে।

কাউনয়া উপজেলার কৃষক জিল্লুর রহমান, জাহাঙ্গীর হোসেন, আজিজুর রহমান, আফজাল হোসেনসহ অনেকেই জানান তারা আগাম ধান চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। কয়েক বছর আগেও আগাম জাতের ধান চাষের কথা চিন্তা করা যেত না। কিন্তু কয়েক বছর থেকে আগাম ধান চাষ করে তারা অভাব ঘুচিয়েছেন। তারা বলেন, এক হাজার খড় বিক্রি করছি ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা দামে। খড়ের দাম ভাল হওয়ায় তারা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল বলেন, আগাম জাতের ধান এই অঞ্চলের অর্থনীতিকে গতিশীল রেখেছে। প্রতিবছরই এই ধানের চাষ বাড়ছে। এবারও ধানের সাথে কৃষকরা খড়ের বেশি দাম পাচ্ছেন।


সারাবাংলা

আরও পড়ুন