• ঢাকা
  • রবিবার , ১৯ এপ্রিল ২০২৬ , বিকাল ০৩:৪৪
  • ৬ বৈশাখ, ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
হোম / সারাদেশ

বাজার থেকে উধাও বোতলজাত সয়াবিন তেল

রিপোর্টার : dailyajkerjanobani
বাজার থেকে উধাও বোতলজাত সয়াবিন তেল ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ

সারিয়াকান্দি বগুড়া প্রতিনিধিঃ  সারিয়াকান্দির হাট- বাজারে  বোতলজাত সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের অন্যতম সয়াবিন তেল। রান্নার কাজে এ সয়াবিন তেলই বেশি ব্যবহার করা হয়। বাজারে হঠাৎ এই ভোজ্য তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বর্তমানে খুচরা বাজারে সয়াবিন তেলের এক ও দুই লিটারের বোতলের প্রায় ৯০ শতাংশ উধাও। কেউ যদি ভাগ্যগুণে পেয়েও যান, তাহলে তাকে গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।
সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বোতলজাত তেল কেটে ড্রামে ভরে খোলা তেলের দামে বিক্রি করছেন, এতে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম গুনতে হচ্ছে। ভোক্তারা সঠিক সরবরাহ নিশ্চিত এবং তেলের বাজারে স্বচ্ছতা আনতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

সরেজমিনে সারিয়াকান্দি বাজার, ফুলবাড়ি হাট,রামচন্দ্রপুর বাজার, দেবডাঙ্গা বাজার, কুতুবপুর বাজার,কড়িতলা বাজার,হাসনা পাড়া, এবং নিজ বলাইল এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট। দোকানদাররা অভিযোগ করেছেন, ডিলারদের কাছ থেকে সরবরাহ না পাওয়ার কারণে তারা বাধ্য হয়ে খোলা তেল বিক্রি করছেন। তবে, খোলা তেলেরও বর্তমান দাম অনেক বেশি, যার ফলে তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। দোকানদারদের মতে, ডিলাররা আগে প্রতি সপ্তাহে তেল সরবরাহ করলেও এখন অর্ডার নেওয়া বন্ধ রেখেছে।এ পরিস্থিতিতে খোলা তেল বিক্রি করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই বলে জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে একাধিক দোকানদার জানান, ডিলারকে তেলের অর্ডার দিতে চাইলে তারা অর্ডার নিতে চাচ্ছে না। কারন হিসেবে তারা বলে আমাদের কাছে কোন প্রকার তেল নাই অর্ডার নিয়ে কি লাভ তেল যদি দিতে না পারি। বর্তমানে তাদের দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেলের মজুদ নেই, ফলে বাধ্য হয়ে খোলা তেল বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে খোলা তেলের দামও এখন চড়া। পাইকারি দরে খোলা সুপার অয়েল প্রতি কেজি ১৭৮ টাকায় কিনতে হচ্ছে, যার সঙ্গে পরিবহন খরচ যোগ করে খরচ দাঁড়াচ্ছে ১৮০ টাকা। খুচরা বাজারে এই তেল বিক্রি করতে হচ্ছে ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকায়। পাম অয়েলের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। পাইকারি দরে প্রতি কেজি ১৬৮ টাকায় কিনতে হয়, পরিবহন খরচসহ তা ১৭০ টাকা হয় এবং খুচরা বাজারে এটি বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকায়।

 এ পরিস্থিতিতে ক্রেতারা যেমন বেশি দাম দিয়ে তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, তেমনি দোকানদাররাও চরম আর্থিক চাপে পড়ছেন।একজন ছোট দোকনদার বলেন, বোতলজাত তেলের বিক্রয়ে লাভের পরিমাণ অত্যন্ত সামান্য। তাছাড়া বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে কম চাহিদা সম্পন্ন পণ্য রাখার ঝুঁকি নিতে রাজি নন। ফলে তিনি এবং তার মতো অনেক দোকানদাদের পক্ষে তেল বিক্রি করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় ব্যবসা পরিচালনা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। এছাড়া, ছোট—বড় দোকানদারেরা জানিয়েছেন,কোম্পানি ও ডিস্ট্রিবিউটরদের পক্ষ থেকে সরবরাহ না থাকায় এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে।তাদের পক্ষ থেকে পরিমাণমতো তেল সরবরাহ করা হতো তাহলে এ সংকট তৈরী হতোনা। তারা আশঙ্কা করছেন, এই সংকট যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
 সারিয়াকান্দি  মুদি ব্যবসায়ী জাকির মিয়া বলেন, কোম্পানির কাছ থেকে আমরা অর্ডার দিয়েও আমরা বোতলজাত তেল পাচ্ছি না। কয়েকটি কোম্পানির বোতলজাত তেল কয়েক মাস ধরে সাপ্লাই বন্ধ রয়েছে। তবে সেইসব নামী দামী কোম্পানির স্থানীয় এজেন্সিতে অতিরিক্ত দামে বোতলজাত তেল মিলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। 

স্থানীয়দের দাবি, সারিয়াকান্দির বাজার গুলোতে প্রায় ১ মাস হলো বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না বললেই চলে, যা ক্রেতাদের জন্য বড় ধরনের বিপত্তি সৃষ্টি করেছে। ১ লিটার তেলের দাম ১৬৭ টাকা, ২ লিটার ৩৩৪ টাকা, এবং ৫ লিটার ৮১৮ টাকা থাকলেও বর্তমানে এই দামে তেল বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না।কিছু দোকানে পাওয়া গেলেও দাম  বেশি। সয়াবিন তেলের সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বোতলজাত তেল কেটে ড্রামে ভরে তা খোলা  তেলের দামে বিক্রি করছেন, যা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। এতে সাধারণ মানুষ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। ক্ষুব্ধ ক্রেতারা জানান, দোকান গুলোতে  তেল নেই বা যেখানে পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে উচ্চ মূল্য চাওয়া হচ্ছে। ক্রেতারা দ্রুত তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং বাজারে সঠিক তদারকির মাধ্যমে এই সংকট সমাধানে সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

এ বিষয়ে হাসনা পাড়ার স্থানীয় এক ক্রেতা রবিউল বলেন, সয়াবিন তেল কিনতে এসে দেখি দোকান গুলোতে নেই, যেখানে পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে অনেক বেশি দাম চাচ্ছে। আমরা সাধারণ মানুষ, এভাবে চলা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এখন থেকে তেল ছাড়াই রান্না করে খেতে হবে।
ফুলবাড়ি বাজারে বাবলী বেগম বলেন, বোতলের তেল তো মিলছেই না। খোলা তেল কিনতে হচ্ছে, সেটাও অনেক বেশি দামে। আমাদের জন্য সংসার চালানো খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সারিয়াকান্দির সাধারণ মানুষ দ্রুত তেলের সরবরাহ নিশ্চিত এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তারা চান, বাজারে সঠিক তদারকির মাধ্যমে সংকট সমাধান করা হোক।বাজারে তেলের এই সংকট ও কারসাজির বিষয়ে প্রশাসনের সঠিক নজরদারি নেই বলে অভিযোগ করেছেন সারিয়াকান্দির স্থানীয় জনগণ ও ভুক্তভোগীরা। তেলের দাম ও সরবরাহের সংকট দ্রুত সমাধান করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন। তারা তেলের বাজারে স্বচ্ছতা আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। 

এ বিষয়ে সাীিয়াকান্দি বাজারের পাইকারী ব্যবসায়ী শিবু পোদ্দার বলেন, কিছু কোম্পানি থেকে তেল দেড় মাস হলো কোন প্রকার তেল দিচ্ছে না আমাদের। তারা ঠিক কি কারণে সরবরাহ দিচ্ছেনা, তা আমাদের জানা নেই। এছাড়া, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে।

এ  বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.শাহারিয়ার রহমান জানান, সয়াবিন তেলের বাজার স্বাভাবিক রাখতে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিনিয়ত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। কেউ যদি বোতলজাত তেলের সংকট দেখিয়ে বেশি দামে বিক্রি করে তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সারাবাংলা

আরও পড়ুন