• ঢাকা
  • সোমবার , ২ মার্চ ২০২৬ , বিকাল ০৫:১৬
  • ১৮ ফাল্গুন, ১৪৩২
ব্রেকিং নিউজ
হোম / সারাদেশ

শিবগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী নবান্ন উৎসব উপলক্ষে বসেছে শত বছরের মাছের মেলা

রিপোর্টার : dailyajkerjanobani
শিবগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী নবান্ন উৎসব উপলক্ষে বসেছে শত বছরের মাছের মেলা ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ

আব্দুর রহিম, শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধি:


নবান্ন উৎসবকে ঘিরে বগুড়ার শিবগঞ্জে বসেছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা। প্রায় ৩০০ বছর ধরে শুধু একদিনের জন্য উথলী গ্রামের হাটটিতে জমে ওঠে বিশাল এই মাছের মেলা। তবে এতে নতুন সবজি থেকে শুরু করে মিষ্টিসহ সব কিছুই মিলে এখানে। এছাড়াও নাগরদোলা, শিশু-কিশোরদের খেলনার দোকানও বসেছে এই মেলায়। সেইসঙ্গে মিষ্টান্ন ও দইয়ের একটি বড় বাজারও বসানো হয় মেলা চত্বরে। কাছের ও দূরের ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত ছিল এবারের মেলা। মেলা আগত স্থানীয়রা জানায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পঞ্জিকানুসারে পহেলা অগ্রাহয়ণ সনতন ধর্মাবলম্বীরা নবান্ন উৎসব পালন করে। তবে এইবার ২রা অগ্রাহয়ণ রবিবার (১৭ নভেম্বর) এই উপলক্ষে মেলা বসেছে। এই উৎসবকে কেন্দ্র করেই প্রতিবছর উথলীসহ শিবগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে বসেছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মাছের এই মেলা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নবান্ন উৎসব হলেও উথলী, রথবাড়ি, ছোট ও বড় নারায়ণপুর, ধোন্দাকোলা, সাদুল্লাপুর, বেড়াবালা, আকনপাড়া, গরীবপুর, দেবীপুর, গুজিয়া, মেদেনীপাড়া, বাকশন, রহবল, দাড়িদহ, কিচক, আমতলী, আলিয়ারহাট, আটমুল, ভাইয়েরপুকুর, পিরব, জামুরহাট, বুড়িগঞ্জহাট শিবগঞ্জসহ প্রায় ২০ গ্রামের মানুষের ঘরে ঘরে রয়েছে নানা আয়োজন। এ মেলা এলাকায় জামাই মেলা নামেও পরিচিত। প্রতিটি বাড়িতে মেয়ে-জামাইসহ আত্মীয়-স্বজনদের আগে থেকেই নিমন্ত্রণ করা হয়। পরিবারের সবাইকে নিয়ে তারা নতুন ধানে নবান্ন উৎসবে মেতে ওঠেন। সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন পন্যের প্রায় ২০০টি দোকান নিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। এর অর্ধেকই মাছের দোকান। এসব দোকানে  দেড় কেজি থেকে শুরু করে ২০ কেজি ওজনের বোয়াল, রুই, কাতলা, চিতল, সিলভার কার্প, ব্রিগেড কার্প, ব্লাড কার্পসহ নানা রকমের মাছ বিক্রি করছেন তারা। এইবার মেলায় দেশী মাছ অর্থ্যাৎ নদীর মাছ খুব আমাদানি ছিল কম। তবে এবার মেলায় পাইকারী বাজার ও খুচরা বাজারে দাম বেশি। মেলায় রুই-কাতলা ও চিতল মাছগুলো ৬০০থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও মাঝারি আকারের মাছ চারশত থেকে সাড়ে পাঁচশত টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে ব্রিগেড ও সিলভার কার্প মাছ বিক্রি করতে দেখা গেছে। অন্যদিকে, নতুন আলু ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। নবান্ন উপলক্ষে শ্বশুরবাড়িতে এসেছেন মিঠুন। তিনি বলেন, দএই এলাকায় নবান্নের মেলা থেকে মাছ কিনে শ্বশুরবাড়ি যেতে হয়। তাই মেলায় মাছ কিনতে এসেছি। কিন্তু এবার মাছের দাম বেশি তাই খুঁজতেছি দামে-দরে মিলেগেলে নিয়ে নেব।
মাছ বিক্রেতা বাছেদ বলেন, এবার পাইকারি বাজারে মাছের দাম বেশি তার জন্যই বেশি দামে মাছ বিক্রি করতে হচ্ছে। এই মেলা উপলক্ষে পাঁচমণ মাছ কিনেছি। লাভ ভালো হবে বলে আশা করছি। আনারুল ইসলাম নামে আরেক ব্যবসায়ী বলেন, প্রতি বছর এই মেলায় মাছ বিক্রি করতে আসি। গতবারের তুলনায় এবার ক্রেতা কম। উথলী বাজারের পিয়াশ জানান, প্রতি বছর নবান্নে এখানে মাছের মেলা হয়। মেলায় সূর্যোদয়ের পর থেকে রাত পর্যন্ত মাছ কেনাবেচা হবে। তিনি আরো বলেন এটা সনাতন ধর্মের লোকজনদের হাতে শুরু হলেও এখন সব ধর্মের মানুষ সমানভাবে এই উৎসব পালন করে। সবাই আত্মীয়-স্বজন, মেয়ে জামাইদের দাওয়াত করে নবান্ন উপলক্ষে এইবার দুই থেকে আড়াই কোটি টাকার ব্যবসা হবে। এর মধ্যে দেড় থেকে দু কোটি টাকার শুধু মাছই বিক্রি হয় মেলায়।


সারাবাংলা

আরও পড়ুন