ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ
স্টাফ
রিপোর্টারঃ সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার চরগিরিশ ইউনিয়নের দক্ষিণ ছালাল গ্রামে দোকানঘরে ও বসতবাড়িতে
হামরার ও মারপিটের ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় বিএনপির যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এই হামলায় যুক্ত ছিল বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।এই ঘটনা ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার রাতে।
শামিম রেজা নামের এক ভুক্তভোগী জানান, ছালাল বাজারে তাদের পরিবারের মালিকানাধীন একটি কাপড়ের দোকানে তাঁর বড় ভাই সাদ্দাম হোসেন বসে ছিলেন। এ সময় ১৪-১৫ বছরের একজন কিশোর এসে পেট্রোল ক্রয়ের কথা বলে। এসময় অন্যকাজে ব্যস্ত থাকায় সাদ্দামের একটু দেরী হলে কিশোরটি তাকে গালিগালাজ করে চলে যায়। এর পরদিন রাত ৮:৩০টার দিকে সুজন চাকলাদার ও রবিউলের নেতৃত্বে মোটরসাইকেলযোগে ২০-৩০ জন ব্যক্তি এসে সাদ্দাম হোসেনকে দোকান থেকে বাইরে এনে মারধর শুরু করে। এসময় সাদ্দাম কোনোভাবে দৌড়ে আত্মরক্ষা করলেও হামলাকারীরা আরও উত্তেজিত হয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের
বরাত দিয়ে শামিম জানান, কিছু সময়ের মধ্যেই আরও প্রায় শখানেক লোকজন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাজারে গিয়ে সব দোকান জোরপূর্বক বন্ধ করে দেয়। এরপর সাদ্দাম ও সাহালির দুটি দোকান ভাঙচুর করে, মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এসময় চাপাতি দিয়ে দোকানের কাঠামো কুপিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
এরপর হামলাকারীরা সাদ্দাম হোসেনের বাড়িতে গিয়ে তিনটি জানালার কাচ, বিদ্যুতের মিটার এবং বাড়ির পুরোনো দোকানের বেড়া ভাঙচুর করে। এসময় তারা কেউ বাড়িতে ছিলেন না । শুধু দুই শিশু বাচ্চাকে নিয়ে সাদ্দামের ভাবি ঘরে
অবস্থান করছিলেন। পরে হামলাকারীরা শামীমের চাচা আনোয়ার মেম্বারের বসতবাড়িতেও হামলা করে, বাড়িও লুট চালায়। শামিম বলেন, "আমরা ৯৯৯-এ একাধিকবার ফোন করেছি। , থানার ওসি আশ্বাস দিলেও স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ি থেকে কেউ যোগাযোগ করেনি। পাশে নদী থাকায় সরাসরি আসাও সম্ভব হয়নি। পরে সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করে রাত ১:৩০টার দিকে সহায়তা পাই। তারা এলেও ততক্ষণে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। কাউকে ধরা যায়নি।
ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন, স্থানীয় বিএনপি ইউনিটের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকও হামলায় পরোক্ষভাবে জড়িত। শামিম রেজা বলেন, "আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত না, সাধারণ ব্যবসায়ী। তবু আমাদের এমন নির্মমভাবে টার্গেট করা হলো। এখন আমরা প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকির মধ্যে আছি। এদিকে অভিযুক্তদের ফোনে যোগাযোগ করলে তাদের ফোন বন্ধ থাকায় কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কাজিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরে আলম জানান, থানায় এখনও কোনো অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।