ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ
সারিয়াকান্দি (বগুড়া)প্রতিনিধিঃ সারিয়াকান্দি উপজেলার হাট বাজারে কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে মুরগি ও মাংস মাছ বিক্রেতা- সবাই অবাধে ব্যবহার করছেন পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর পলিথিন। সচেতন নন ক্রেতারাও। মালামাল বহনের সুবিধার্থে তারাও চান পলিথিনের ব্যাগ। মাঝে হাতল ওয়ালা পলিব্যাগ বাজারে না দেখা গেলেও এখন দেখা মিলছে অহরহ।
শনিবার (২ নভেম্বর ) সকালে সারিয়াকান্দি বাজারে ঘুরে দেখা যায় এ দৃশ্যই। হাতলওয়ালা ও কালো পলিথিনের ব্যবহার হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত। অথচ এটা বন্ধে নেই কোনো উদ্যোগ।
সকালে কাঁচাবাজার থেকে সবজি কিনে পলিব্যাগে করে নিয়ে যাচ্ছিলেন হিন্দুকান্দি গ্রামের বাসিন্দা সবুজ মাষ্টার। তিনি বলেন, পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ হলেও সবাই ব্যবহার করছে। পলিথেনের বিকল্প হিসেবে অন্য কোনো ব্যাগ বাজারে তেমন একটা দেখা যায় না। আর বিক্রেতারাও পণ্যগুলো পলিথিনে দিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। ক্রেতাদের সুবিধা মতো যখন ইচ্ছে বাজার করতে পারে না হলে বাড়িতে গিয়ে বাজারের ব্যাগ নিয়ে এসে বাজার করতে হতো এটা একটা বিড়ম্বনা।
সহজপ্রাপ্তি আর মূল্য কম হওয়ায় অন্য ব্যাগের পরিবর্তে পলিথিনে আগ্রহ বেশি বলে জানান খুচরা ব্যবসায়ীরা। এ প্রসঙ্গে বাজারের বিভিন্ন খুচরা ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, সরকার পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করলেও বাজারে এখনও পলিথিন সরবরাহ রয়েছে। বরং পাট বা অন্য ব্যাগের সরবরাহ নাই বললেই চলে। আর পলিথিন দামেও সস্তা। তাই পলিথিন ব্যবহারের প্রতিই তারা আকৃষ্ট।
পলিথিন ব্যাগের উৎপাদন, ব্যবহার, মজুদকরণ ও সংরক্ষণ আইন-২০০২ নিষিদ্ধ হওয়ার পর সারাদেশে কমে যায় পলিথিনের ব্যবহার। তবে সেই সোনালি দিন খুব বেশি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কিছুদিনের মধ্যেই চিত্র পাল্টে যায়। সব জায়গায় আবারও ছড়িয়ে পড়ে পরিবেশ দূষণকারী পলিব্যাগ।
এ প্রসঙ্গে সারিয়াকান্দি বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ বলেন, এটা ঠিক যে কাগজ ও পাটের ব্যাগের ব্যবহার আমাদের পলিথিনের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে পারে। তবে তার জন্য পাট ও কাগজের ব্যাগের ইতিবাচক দিক, স্বল্পমূল্য ও সহজ প্রাপ্তির বিষয়টি আগে নিশ্চিত করতে হবে। আমরা সবাই পলিথিন ব্যাগ ব্যবহারের বিপক্ষে, কিন্তু পাট বা পরিবেশ বান্ধব ব্যাগগুলোর সহজপ্রাপ্তি এখনও নিশ্চিত নয়। তাই পলিথিন ব্যবহার করতে হয়।
এসময় তিনি এ বিষয়ে সরকারের নজরদারির বিষয়টিও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পলিথিনের উৎপাদন ও বাজারজাত বন্ধে সরকারের ব্যাপক নজরদারি চালাতে হবে। কিন্তু দীর্ঘদিন এমন কোনো কিছুই নজরে আসেনি। এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদফতরের পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনেরও সদিচ্ছা ও তদারকি থাকা প্রয়োজন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.শাহারিয়ার রহমান বলেন, সারিয়াকান্দিতে এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আমরা সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক আগামীতে পদক্ষেপ নিবো।
এই প্রসঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তরের বগুড়া জেলার সহকারী পরিচালক মাহাথীর বিন মোহাম্মদ বলেন, পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে আইন ও বাস্তবায়ন দুটোই রয়েছে। আমরা সব সময়ই কাজ করে যাচ্ছি। ভ্রাম্যমাণ টিম নিয়মিত তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।তবে যতক্ষণ না মানুষ সচেতন হবে, ততক্ষণ পুরোপুরিভাবে এটা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।জনগণকে সচেতন করার জন্য আমরা বিভিন্নভাবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি।
সোর্স :
এ/ জে
সারাবাংলা