• ঢাকা
  • সোমবার , ২ মার্চ ২০২৬ , বিকাল ০৩:৫৮
  • ১৮ ফাল্গুন, ১৪৩২
ব্রেকিং নিউজ
হোম / সারাদেশ

শেরপুরে ভুট্টায় দ্বিগুন লাভ ধানচাষে অনীহা

রিপোর্টার : dailyajkerjanobani
শেরপুরে ভুট্টায় দ্বিগুন লাভ ধানচাষে অনীহা ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ

ইফতেখার আলম, শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:
 
বগুড়ার শেরপুরে ভুট্টা চাষের দিকে বেশি ঝুঁকছেন কৃষকরা। এ অঞ্চলে ধানের চেয়ে দ্বিগুন লাভ হওয়ায় দিন দিন ভুট্টা চাষীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। স্বল্প ব্যয়ে দ্বিগুণ লাভের পাশাপাশি বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় এই উপজেলার কৃষকরা ভুট্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে ভুট্টার চাষ হয়েছে এবং বছর  বছর বাড়ছে লক্ষমাত্রা, আর লক্ষমাত্রাকেও ছাপিয়ে ভুট্টা চাষ এখন চাষীদের কাছে জনপ্রিয়।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বছর এ উপজেলায় ভুট্টা চাষে লক্ষমাত্রা ছিল ২ হাজার ৪৬০ হেক্টর জমি। এ বছর ভুট্টার লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৫০০ হেক্টর। অথচ জরিপ করে দেখা গেছে গোটা উপজেলায় ৩ হাজার ৩৮৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ করেছে কৃষক।

খানপুর ইউনিয়নের ছাতিয়ানী বাজারের কীটনাশক ব্যবসায়ী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করতে প্রায় ১৩ হাজার টাকা খরচ হয়। আর স্বাভাবিক ভাবে প্রতি বিঘায় ভুট্টার ফলন হয় সর্বনিম্ন ৪০ মণ, প্রকারভেদে এর বেশিও হয়ে থাকে। গত বছর কৃষক ১ হাজার ২০০ টাকা মণ ভুট্টা বিক্রি করেছে, সে মোতাবেক প্রতি বিঘায় ৪৮ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় ১৩ হাজার টাকা খরচ বাদ দিলে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা লাভ পায় কৃষক। অন্যদিনে প্রতি বিঘায় কৃষক ধান পায় ২২ মণ, ১ হাজার ৪০০ টাকা মণ হলে কৃষক দাম পায় ৩০ হাজার ৮০০ টাকা। প্রতি বিঘায় ১২ হাজার খরচ বাদ দিলে কৃষক পায় ১৮ হাজার ৮০০ টাকা।
উপজেলার শালফা গ্রামের কৃষক মো. জেকের আলী বলেন, উপজেলার করতোয়া ও বাঙালী নদী তীরবর্তী জমি সহ অন্যান্য জমিতেও ভুট্টা চাষ করা যায়। তুলনামূলক ভাবে চাষাবাদ সহজ ও ফলন বেশি হওয়ায় আমরা ভুট্টা চাষ করি। গত বছর ৮ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি। প্রতি বিঘায় ৪০ থেকে ৪২ মণ ফলন পেয়েছিলাম। ১২৮০ টাকা মণ দরে ভুট্টা বিক্রি করে ভালোই লাভ হয়েছিল। এবার ১০ বিঘা জমিতে ভুট্টা লাগিয়েছি। যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে এবং রোগ বালাইয়ের প্রকোপ খুব বেশি না হয়, তাহলে এবার ভালো ফলন ও লাভ হবে বলে আশা করছি।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ফারজানা আক্তার বলেন, এ উপজেলার জমির মাটি দুই ধরনের। পশ্চিমাঞ্চলের মাটি আলু ও ধান চাষের উপযোগী। আর পূর্বাঞ্চলের মাটি ভুট্টাসহ সবজি চাষের উপযোগী হওয়ায় কৃষকরাও সেই অনুযায়ীই চাষাবাদ করছেন। এবার সবচেয়ে বেশি জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। যা লক্ষমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। আমার অধিদপ্তর থেকে কৃষকদের সকল প্রকার পরামর্শ ও সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।



সারাবাংলা

আরও পড়ুন