• ঢাকা
  • মঙ্গলবার , ২১ এপ্রিল ২০২৬ , সন্ধ্যা ০৬:২৮
  • ৮ বৈশাখ, ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
হোম / সারাদেশ

কাজিপুরের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বাণিজ্যের টাকা গেছে জয়-খলিলের পকেটে

রিপোর্টার : dailyajkerjanobani
কাজিপুরের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বাণিজ্যের টাকা গেছে জয়-খলিলের পকেটে ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ

স্টাফ রিপোর্টার :


পট পরিবর্তনের দিনই গা ঢাকা দিয়েছেন কাজিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কাজিপুর উপজেলা চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান সিরাজী। কাজিপুরে এমপি জয়’র পরেই তার কথাই শেষ কথা বলে বিবেচিত হতো এই ৫ আগস্টের পূর্বেও। খলিলের নির্দেশে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আর স্বেচ্ছাসেবকলীগের কতিপয় উৎসাহী নেতার দাপটে উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নাভিশ্বাস অবস্থা উঠেছিল।


মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুর পরে উপ-নির্বাচনে পাস করে এসে তানভীর শাকিল জয় যেন আরও হিংস্র হয়ে ওঠেন। দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে তার কথা বলার ধরণ পাল্টে যায়। একের পর এক তিনি খলিলের সহায়তায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কব্জা করে নিয়োগ বাণিজ্যে মেতে ওঠেন।

সম্প্রতি তিনি সাবেক চালিতাডাঙ্গা মহিলা কলেজ, বর্তমান মোহাম্মদ নাসিম চালিতাডাঙ্গা মহিলা কলেজের একজন অফিস পিওন নিয়োগ দিয়েছেন। সেখান থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকার বাণিজ্য হয়েছে। যার সিংহভাগ গেছে তানভীর শাকিল জয় আর খলিলুর রহমানের পকেটে বলে কলেজ সংশ্লিষ্ট একাধিক দলীয় লোকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।


তারা জানান, গত কয়েক বছর যাবৎ কলেজটির সভাপতি ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ বকুল সরকার। তার প্রচেষ্টায় কলেজটি নিজস্ব অর্থায়নে একটি সুন্দর অডিটোরিয়াম নির্মাণ করা হয়েছে। কলেজটির সৌন্দর্য চোখে পড়ার মতো। কিন্তু তাকে হঠাৎ হটিয়ে সেখানে দলীয় লোককে পদে বসিয়ে এমপি নিজে বাগিয়ে নিলেন প্রায় দশ লাখ টাকা। অথচ কলেজের কর্মচারীদের মধ্যে অনেকেই ওই পদটির জন্যে চেষ্টা করলেও নিরপেক্ষ কোন পরীক্ষা নেয়া হয়নি।


এছাড়া নাটুয়ারপাড়া কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগ দিয়েও অনেক টাকা কামিয়েছেন জয় ও খলিল। জানা গেছে, নাটুয়ারপাড়া কলেজের উপাধ্যক্ষ আব্দুস সালামকে অধ্যক্ষ হিসেবে সম্প্রতি নিয়োগ দেয়া হয়। এতে করে প্রায় ত্রিশ লাখ টাকার বাণিজ্য হয়েছে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলেজ পরিচালনা কমিটির কয়েকজন সদস্য জানান।


তারা জানান, অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পাওয়া বর্তমান অধ্যক্ষ উপজেলা চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান সিরাজীর সাথে তিনি সখ্যতা গড়ে তোলেন। এরপর তার সাথে মোটা অংকের অর্থের দেনদরবার সারেন। রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পরে ত্রিশ লাখ টাকায় রফা করে পরে নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। এই টাকার সিংহভাগ জয় এবং পরের অংশ খলিল সাহেবের পকেটে গেছে বলে পরিচালনা কমিটির অনেক সদস্য ক্ষোভের সাথে জানান। অথচ কলেজের কাজ কিছুই হয়নি। বকুল সরকার কলেজটিকে যেভাবে রেখে গেছেন এখন ঠিক সে অবস্থাতেই অবকাঠামো রয়েছে। পদাধিকার এবং স্থানীয়ভাবে উপাধ্যক্ষ আব্দুস সালামকেই অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগের একটা দাবি এলাকাবাসী করেছিল। কিন্তু সেখানেও সালামকে গুণতে হয়েছে মোটা অংকের অর্থ।


কয়েকমাস পূর্বে আমিনা মনসুর ডিগ্রি কলেজের পরপর তিনটি নিয়োগ দেয়া হয়। পিওন পদের সেসব নিয়োগেও মোটা অংকের টাকা গেছে জয় এবং খলিল সাহেবের পকেটে। কিছু টাকা গেছে ওই কলেজের অধ্যক্ষের পকেটে। আর এসব ম্যানেজ করেছেন খলিল সাহেব। এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে ওই কলেজের এখনও সাধারণ মানুষ ও গ্রামবাসীর মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। অথচ কলেজের নেই বাউন্ডারি ওয়াল, শিক্ষকদের বসার চেয়ার।


এছাড়া আরআইএম ডিগ্রি কলেজের নিয়োগেও জয়-খলিলের পকেটে গেছে প্রায় কুড়ি লাখ টাকা। সেখানেও সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। কিন্তু এতদিন তারা ভয়ে কিছু বলতে পারে নাই। কিছু বললেই খলিল তার পোষা গুন্ডা বাহিনীকে রাতের আঁধারে লেলিয়ে দিয়ে ওইসব প্রতিবাদী মানুষদের বাড়ি-ঘরে হামলা চালিয়ে লুটপাট করে। এমনকি শারীরিকভাবেও তাদের লাঞ্ছিত করা হয়। দলের কোন পদে থাকলে তাকে একঘরে করে রাখা হয়। এমনি করে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বাণিজ্য করে জয় ও খলিল প্রায় কোটি টাকা কামিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও কাজিপুরের সচেতন মহল মনে করেন।


এর আগের বছরগুলোতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পিওন নিয়োগে দলীয় ছেলেদের ঢুকিয়ে দিয়েছেন জয়। কিন্তু তাদেরকেও রেহাই দেননি এমপি জয় ও মোছারু খলিল। এক থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সেইসব দলীয় কর্মীদের নিকট থেকে নিয়ে তবেই নিয়োগ দিয়েছেন। এর সত্যতা ওইসব ভুক্তভোগীদের জিজ্ঞেস করলেই মিলবে বলে জানান সচেতন মহল।


খলিল সাহেবের পড়ালেখার যোগ্যতা এসএসসি পাস হলেও তিনি নিজেকে গ্রাজুয়েশন পাশ বলে পরিচয় দেন। বিষয়টির সত্যতা তার নির্বাচনী হলফনামা দেখলেই বোঝা যাবে। এসএসসি পাস খলিল সাহেব এরপরেও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের তিনি সভাপতি ছিলেন। তার সময়ের সেইসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের মাধ্যমে তিনি কামিয়েছেন বেশুমার অর্থ। এমনকি সেইসব প্রতিষ্ঠানে তিনি এমপির বরাদ্দ ও নিজের উপজেলা পরিষদের বরাদ্দ দিতেন। কিন্তু কাজটিও তিনিই তার লোকজন দিয়ে করাতেন। নামমাত্র কাজ করে সমুদয় টাকা তিনি নিয়ে নিতেন। এসবের সত্যতা সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে গেলেই মিলবে বলে জানান সেইসব প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ।


সারাবাংলা

আরও পড়ুন