ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ
মোঃ সুলতান মারজান, মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি:
রংপুরের মিঠাপুকুরে চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হওয়ার পরেও হতাশ কৃষক। বিগত বছরগুলোর তুলনায় আলু ফলন এ বছর বৃদ্ধি পেলেও আলুর আশানুরূপ দাম না থাকায়, আলু চাষীরা পড়েছে হতাশায়। এক দিকে চলতি মৌসুমে আলুর দাম না থাকা অপরদিকে আলু গুদামজাত করার প্রক্রিয়ায় আরেক বিপদের সম্মুখীন হয়েছে কৃষকেরা। আলু গুদামজাত করতে গুণতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। কোল্ডস্টরে আলু গুদামজাত করায় ধাপে ধাপে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে, লেবার ও সিরিয়াল টোকেন দেওয়া ব্যক্তিরা।
উপজেলার বিভিন্ন কোল্ডস্টোরেজ ঘুরে দেখা যায়, লেবার সিন্ডিকেটের কারণে হাজারো কৃষকসহ আলু পরিবহন করা ব্যক্তিরা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। কোল্ডস্টোরে লেবারেরা সিন্ডিকেট গঠন করে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন, পণ্য পরিবহনের জন্য স্থানীয় কৃষকরা ব্যবহার করছেন, পাওয়ার টিলার, ভ্যান গাড়ি, পিকাপ, ট্রাক ভটভটি ও নছিমন। পণ্য খালাসের জন্য লেবারেরা একেক গাড়ি থেকে একক রকমের অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন, এতে করে কৃষকেরা,আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তসহ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ।
ঢাকা রংপুর মহাসড়কের কোল ঘোষে শাপলা কোল্ডস্টোরেজ কোম্পানি লিমিটেড নামে একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছে। এই কোল্ডস্টোরেজে আলু ধারণক্ষমতা ২ লক্ষ্য ৪০ হাজার বস্তা। আলু কোল্ডস্টোরেজ করার জন্য অসংখ্য গাড়ি ৩-৪ দিন পর্যন্ত আলু নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। আলু কোল্ডস্টোরেজ করতে নানান বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে আলু চাষিদের। ৩-৪ দিন রাস্তায় থাকার ফলে অর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আলু চাষিরা, সেই সাথে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত পরিবহন খরচ।
আলু চাষী ও পরিবহন মালিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এখানে কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছেনা কর্তৃপক্ষ । যারা অতিরিক্ত টাকা নিতে পারে, তাদের আলু রাস্তা থেকে নিয়ে আসে লেবারেরা। আর আমরা রাস্তায় ৩-৪ দিন ধরে পড়ে আছি। এ অভিযোগ স্টোর কতৃপক্ষ কে অনেক কয়েকবার দেওয়া হয়েছে, তারা কোন গুরুত্বই দিচ্ছেন না।
সচেতন মহল সহ কৃষকদের দাবি এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে লেবার সিন্ডিকেটের কার্যক্রম বন্ধ করা প্রয়োজন। এবং কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করা অতিব জরুরী। এতে কৃষকরা ন্যায্য সেবা পাবেন এবং তাদের আর্থিক ভাবে কম ক্ষতির সম্মুখীন কমবে। ফুলচৌকি কোল্ড স্টোর এর ম্যানেজার দুলাল মিয়ার সাথে কথা বললে, তিনি জানায় গত কয়েক বছরের তুলনায়, আলু চাষ বৃদ্ধি পাওয়া একটু সমস্যার সম্মুখীন আমরাও হচ্ছি। আমাদের স্টোরের কেপাছিটি ২লক্ষ ৫০ হাজার ব্যাগ, ইতিমধ্যে ২ লক্ষ ব্যাগ বুকিং হয়েছে, আমরা আলু নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছি, এখন আমরা গাড়ি নেওয়া বন্ধো করে দিয়েছি। আমরা সব সময় নজরদারি করতেছি, যাতে করে কৃষক ভাইয়েরা যেন সমস্যা না পড়ে, সেদিখে আমরা যথেষ্ট সজাগ রয়েছি। সর্বোচ্চ ২-১ দিনের মধ্যেই রাস্তার আলু স্টরের ভিতরে যাবে ইনশাআল্লাহ।