• ঢাকা
  • সোমবার , ২ মার্চ ২০২৬ , বিকাল ০৫:০৯
  • ১৮ ফাল্গুন, ১৪৩২
ব্রেকিং নিউজ
হোম / সারাদেশ

কাজিপুর-সরিষাবাড়ি – নাটুয়ারপাড়া স্থল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার দাবী

রিপোর্টার : dailyajkerjanobani
কাজিপুর-সরিষাবাড়ি – নাটুয়ারপাড়া স্থল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার দাবী ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ

আবদুল জলিল   যমুনা নদী দ্বারা বিভক্ত সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার সঙ্গে পূর্বের জামালপুর সরিষাবাড়ি উপজেলার স্খল যোগাযোগ স্থাপনের দাবী ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। এই দাবী বাস্তবায়িত হলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েক লক্ষ  মানুষের যাতায়াতে নতুন দিগন্তের  উন্মোচন হবে। এই সম্ভাবনার পালে নতুন করে হাওয়া লেগেছে দেশের ৩২ তম নদীবন্দর হিসেবে মেঘাই-নাটুয়ারপাড়া রুটকে স্বীকৃতি দিয়ে কাজ শুরুর মাধ্যমে। ইতোমধ্যে নদীবন্দরের কাজ এগিয়েছে অনেকখানি। নদীর দুইপাড়ে  বিআইডব্লিউটিএ এর দুটো পল্টুন দিয়ে বন্দরের কাজ শুরু হয়েছে। বন্দরের জন্যে প্রয়োজনীয় অফিস অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে যমুনা নদীর মেঘাই ঘাট এলাকায়। 

 কাজিপুরের নাটুয়ারপাড়া থেকে মেঘাই ঘাট পর্যন্ত  প্রায় ১৫ কিলোমিটার যমুনা নদীর দুর্গম পথ চর পাড়ি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ যাতায়াত করে। উত্তাল যমুনার তরঙ্গ কেটে ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত থেকে মুক্তি পেতে এই তল্লাটের মানুষ বহুবছর যাবৎ সড়ক পথে যোগাযোগের দাবী জানিয়ে আসছে। বেশ কয়েকবছর যাবৎ যমুনার বুকে বড় বড় চর জেগে আবাদী জমি তৈরি হওয়ায় চরবাসীর স্থলযোগাযোগের স্বপ্ন পূরণের পথ তৈরি হয়েছে। জেগে ওঠা চরের আয়তন উচ্চতা বাড়ছে প্রতি বছর। যমুনার মূল ¯্রােতধারাও এখন অনেক সঙ্কুচিত হয়ে এসেছে।  প্রায় ১৫ কিলোমিটার প্রশ্বস্ত এই নদীতে শুষ্ক মৌসুমে পানি থাকে মাত্র তিন থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার এলাকায়।  রাজধানী ঢাকা থেকে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা হয়ে কাজিপুরের মনসুরনগর ইউনিয়ন  পর্যন্ত পাকা সড়ক  রয়েছে। এখন মনসুরনগর থেকে চরগিরিশ ইউনিয়ন হয়ে যমুনার ছোট একটি শাখা পাড়ি দিলেই নাটুয়ারপাড়ার সাথে স্থলপথে যোগাযোগ করা সম্ভব। আর নাটুয়ারপাড়া থেকে নদীবন্দরের সুবিধায় নাটুয়ারপাড়ার সাথে মেঘাই ঘাটের যোগাযোগ সম্ভব হবে।  আর মেঘাই থেকে বগুড়ার ধুনট-শেরপুর উপজেলা হয়ে জাতীয় মহামসড়কের সাথে যোগাযোগ তৈরি হবে। কাজিপুরের চরগিরিশ ইউনিয়নের ভেটুয়া ঘাটে একটি ৫০০ মিটার সেতু স্থাপন করলেই বিশাল এই যোগাযোগের দ্বার উন্মুক্ত হবে। ইতোমধ্যে এই ঘাট এলাকা দিয়ে জামালপুর থেকে চরাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে। চরে চলাচলের জন্যে নির্মিত হয়েছে পাকা রাস্তা।   

 সড়কের  দুইপাশে জেগে ওঠা বিশাল চরে নতুন নতুন শিল্প কারখানা স্থাপন সম্ভব হবে। এরফলে তল্লাটের মানুষের জীবন জীবিকায় আসবে ইতিবাচক পরিবর্তন। ইতোমধ্যে ঢাকায় বসবাসকারি এই এলাকার শিল্পপতিগণ সুবিধা পেলে চরে কারখানা স্থাপনের বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। উপজেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত সংক্রান্ত এক সেমিনারে তারা এই মতামত ব্যক্ত করেছেন। 

ইঞ্জিনিয়ারিং ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির প্রধান কাজিপুরের ফুলজোড় চরের বাসিন্দা প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলাম জানান, নাটুয়ারপাড়ার সাথে জামালপুরের সরিষাবাড়ি পর্যন্ত সড়কপথে একটি ব্রিজের মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপিত হলে আমরা নিজের এলাকায় শিল্প কারখানা স্থাপন করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।

 শিল্পপতি সাখাওয়াৎ হোসেন জানান, কাজিপুরের চরাঞ্চলে কারখানা স্থাপনে জমির অভাব হবে না। তাছাড়া প্রয়োজনীয় শ্রম পাওয়া যাবে সস্তায়। উপযুক্ত পরিবেশ পেলে কারখানা স্থাপন করার ইচ্ছে আছে।

  কাজিপুর সচেতন নাগরিক সমাজের সভাপতি ফজলুল হক মনোয়ার বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা লিফলেট বিলি করেছিলাম, বিভিন্ন ফোরামে প্রচারণা চালিয়েছিলাম। কাজও এগিয়েছেলা অনেকখানি। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তা আর সামনে এগোয়নি।আশা করি চরবাসীর উন্নয়নের কথা ভেবে এটি বাস্তবায়িত হবে।

 নাটুয়ারপাড়া ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ, শিক্ষাবিদ সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বকুল সরকার জানান, জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার সাথে নাটুয়ারপাড়া পর্যন্ত সড়ক পথে যোগাযোগের দাবী এখন সময়োপযোগী। এটি বাস্তবায়িত হলে অবহেলিত কয়েক লক্ষ মানুষের ভাগ্যয়োন্নয়নের পাশাপাশি শিল্পকারখানা স্থাপনে এলাকার চেহারাই পাল্টে যাবে। এখানে কৃষি নির্ভর অনেক শিল্পকারখানা স্থাপনের সুযোগ রয়েছে।

সোর্স : এ/হক


সারাবাংলা

আরও পড়ুন