ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ
সারিয়াকান্দি বগুড়া প্রতিনিধিঃ
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে স্বামী কর্তৃক নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ সুমা খাতুন বিষপানে আত্মহত্যা চেষ্টা। এরপর সুমা খাতুন কে দ্রুত সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের বয়ড়াকান্দি গ্রাম এলাকায়।
সুমা খাতুন বয়ড়াকান্দি গ্রামের শাহ জাহান আলী মোল্লার মেয়ে। রোববার বেলা ১২ টার দিকে বিষপানে আত্মহত্যা চেষ্টার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শি সুত্রে জানা যায়, গত ২৯ নভেম্বর ২০২৪ ইং তারিখে সাভার আশুলিয়া এলাকায় বাইপাইল কাজী অফিসে নিয়ে এক লক্ষ টাকা দেনমোহর ধার্য্য করিয়া সুমা খাতুন কে বিবাহ করেন, বয়ড়াকান্দি গ্রামের রস্তম আলীর ছেলে মো: সাগর মিয়া। বিয়ের ২০ দিন পর গত ২০ ডিসেম্বর ২০২৪ ইং তারিখে মহাখালী রাব্বির বাড়ীতে বেড়ানোর কথা বলে ১০/১২ জন অস্ত্রধারী সুমা খাতুনকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করিয়া সুমা খাতুনকে তালাক নামায় সহি করানো হয়।এরপরে সাগর মিয়া সুমা খাতুন কে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। নিরুপায় সুমা খাতুন ঢাকা ছেড়ে গত ৭ জানুয়ারি নিজের গ্রামের বাড়িতে চলে আসে। এরপর গতকাল রবিবার সকালে সুমা খাতুন সাগরের গ্রামের বাড়িতে আমরণ অনশন করার প্রস্তুতি গ্রহণ করেন এবং তার পরিবারের নিকট থেকে বিদায় নেন। পরে পথিমধ্যে থেকে ফিরে এসে সুমা খাতুন আত্মহত্যা করার উদ্দেশ্যে দুপুর ১২ টার দিকে বিষপান করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সুমার বড়ভাই সুজন মিয়া বলেন, সাগর আমার বোনকে বিয়ে করে, আবার সন্ত্রাসী ছেলেদের দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তালাকনামায় সই করে নিয়ে আমার বোনকে আর গ্রহণ করতে চাচ্ছে না। এমতাবস্থায় আমার বোন তার বাড়িতে আমরণ অনশন করার প্রস্তুতির পর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। আমার বোনকে নিয়ে আমরা এখন বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছি। বিষয়টির আমরা সঠিক বিচার চাই।
সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিরুল ইসলাম বলেন, যেহেতু ঢাকায় ঘটনাটি ঘটেছে এবং ঢাকাতেই ছাড়াছাড়ি হয়েছে। তাই এ বিষয়ে তদন্ত করা খুবই মুশকিল। তবে মেয়ের নিরাপত্তার জন্য থানায় একটি অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষ খাওয়ার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি এবং অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
সোর্স :
এ/জে
বাংলাদেশ