ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ
স্টাফ রিপোর্টারঃ
কাজিপুর উপজেলা ও সিরাজগঞ্জ সদরের ৫ ইউনিয়ন নিয়ে
সংসদীয় আসন সিরাজগঞ্জ-১ এর সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয় ও কাজিপুর উপজেলা চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানের দুর্নীতির
আমলনামা প্রকাশিত হতে শুরু করেছে। নৌকার ঘঁটিখ্যাত কাজিপুরের মানুষকে বিপদে রেখে এমপি জয় তার সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে পালিয়েছেন। অথচ এই
কাজিপুরের মাটিও নৌকার কথা বলে। আর সেই মাটি থেকে যারা পালিয়ে যায় তাদের বিষয়ে সাধারণ
মানুষের ধ্যান ধারণা সব পাল্টাতে শুরু করেছে। কেউ কেউ তার ফেসবুকে প্রিয় অভিভাবক লিখে
জয় অথবা খলিলের ছবি দিতেও দ্বিধা করেনি। এতেই বোজা যায় তাদের কতটা বিশ্বাস সাধারণ মানুষ
করেছিলো। আর তাদেরই কিনা ফেলে নিজেদের কৃত
পাপের হিসেব না দিতেই লাপাত্তা হয়েছেন সেই তথাকথিত প্রিয় অভিভাবকদ্বয়। আর এ কারণে ক্ষুব্ধ
সাধারণ কাজিপুরবাসী জয় এবং খলিলের আমলনামা বানাতে শুরু করেছেন। তাদের দৃষ্টিতে এই দুইজনের
আমলনামা কেমন ছিলো তাই বিশ্লেষণের চেষ্টা করে তুলে ধরছে জাতীয় দৈনিক আজকের জনবাণী।
আজ পড়–ন তৃতীয় পর্ব
১৬. বিকৃত নারীলোভী
চরিত্রের মানুষ সাবেক এমপি তানভীর শাকিল জয়
শুধু একাই দুর্নীতিতে জড়িত নয়, তার ছোটভাই তমাল মনসুরও এর সাথে জড়িত। আমেরিকায় তিনি পড়তে গিয়ে আফতাব টাওয়ারে
অনেকগুলো ফ্লাটের মালিক হয়েছেন। দুই বছর পূর্বে সেখানে অবস্থিত একটি মসজিদে রমজান মাসে
তিসি পানির লাইন বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এমনও কুকীর্তির মালিক তমাল মনসুর এক হাজার দুইশ
কোটি টাকার মালিক বলে সেসময়ে একাধিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।
১৭. জয় উপজেলার
আওয়ামী লীগের মুরব্বীদেরকে সব সময় পেছনে রেখে কতিপয় টাউটদের নিয়ে চলাফেরা করতেন বলে
এলাকায় অনেক সমালোচনা প্রচলিত আছে। এই কারণে মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুর পরে জয় কাজিপুরে
কোণঠাসা হয়ে পড়েন। যদিও কোন নেতাকর্মিই তার মুখের উপরে কোন কথা বলার সাহস পেতো না কিন্তু
ভেতের ভেতরে তারা ছিলেন চরম নাখোশ। আর তারই প্রতিফলন ঘটছে পট পরিবর্তনের পরেই। যে কাজিপুরের
মানুষ নৌকা পাগল সেখানকার এমপি হয়ে জয়কে পালিয়ে থাকতে হচ্ছে এটা চরম লজ্জার। মূলত তিনি
এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খলিল এতই অন্যায় আর লুটপাট করেছেন যে, তার দলের লোকজনই
বাগে পেলে তাদের সাইজ করবে। আর এই ভয়ে তারা দুজনেই আত্মগোপনে গেছেন।
১৮. মোহাম্মদ নাসিমের সময়ে কাজিপুরে সারের জন্যে
বাফার গোডাউন তৈরির একটি প্রস্তাব নীতিগতভাবে পাস হয়। কিন্তু নাসিমের মৃত্যুর পরে জয়
এর অদক্ষতার কারণে সেই গোডাউনের আর কোন খোঁজ নেই। এমনি করে কাজিপুর থেকে চলে গেছে রাজশাহী
বিভাগীয় সমাজক্যাণ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।
১৯. কাজিপুরের চরাঞ্চলের চারটি ইউনিয়ন নিয়ে মনসুর
নগরে একটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রর জন্যে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বকুল সরকার নাসিম সাহেবের
কাছ থেকে ডিও লেটার নিয়ে অনেকখানি কাজ এগিয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু নাসিম সাহেবের মৃত্যুর
পরে সেই বিষয় নিয়ে জয় আর এগোয়নি। শোনা গেছে এতে করে তার অসুবিধা তাই তিনি এই কাজের
আর খোঁজ নেননি।
২০. বিগত
বছরগুলোতে জয় আর খলিল চরের কিছু মাটির রাস্তা
ছাড়া দৃশ্যমান কোন কাজই তারা করেননি। চরাঞ্চলের মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে তারা একের
পর এক প্রকল্প নিয়েছেন। কিন্তু কাজগুলো বাস্তবায়ন না করে সেই অর্থ নিজেদের পকেটে পুরেছেন।
২১. শেখ রাসেল
ইউকিউবিশন সেন্টারের কাজও কাজিপুরে মুখ থুবড়ে পড়েছে জয় এর অদক্ষতার কারণে। এমপি থাকাকালিন
তিনি এসব বিষয়ের কোন খোঁজই রাখেননি। মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগের অভাবে কাজের গতি একেবারে
বন্ধ হবার পথে। অথচ একবছর আগেই এই কাজ শেষ হবার কথা ছিলো।
২২. কথিত
আছে জয় সাহেব কাজিপুর থেকে সবসময় রাতের বেলা রওনা দিতেন ঢাকার উদ্দেশ্যে। এর কারণ হিসেবে
লোকজন অনেক মুখরোচক কথাই বলছেন। কেউ বলছেন তিনি কাজিপুরের কতিপয় নেতার দেয়া মাছ মাংস
ফলমূল সেইুসাথে উৎকোচের অর্থ সব গাড়ি বোঝাই করে রাতের বেলা চলে যেতেন যাতে করে কেউ
বুঝতে না পারে।
২৩. কাজিপুরে যদি
একটি টয়লেটের উদ্বোধনও হয় সেখানেও প্রধান অতিথি করা হয়েছে তানভীর শাকিল জয়কে। এর কারণ
অতিথি না করলে তার পোষা গুন্ডারা সেই অনুষ্ঠানকে পন্ড করে দিতেন। ফলে মনে বিরুদ্ধে
অনেকে জয়কে ও খলিলকে অতিথি করতেন। মজার বিষয় হলো কাজিপুরের এমপি হিসেবে নিজে কোটি কোটি
টাকা কামালেও এসব অনুষ্ঠানে জয় বা খলিল একটি টাকাও দিতেন না। যদিও মাঝে মাঝে দেবার
কথা বলতেন কিন্তু পরে আর সেই টাকা পাওয়া যেতে না। এরকম অভিযোগ হাজারো মানুষের রয়েছে।
এসব কারণেই কাজিপুরের
জয় ও খলিলকে এই দুঃসময়ে পাশে পাচ্ছেন না। তারা নিজেরা নিজেদের অপকর্মের ভয়ে এলাকা ছেড়েছেন
আর সাধারণ কর্মি সমর্থকদের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আওয়ামলীগের নেতারা জানিয়েছেন
আজকে কাজিপুর থেকে জয় আর খলিলকে তাদের বাহিনীসহ পালাতে হবে কেনো? তারা অবশ্যই অপকর্ম
করেছে মনের মধ্যে সৎ সাহস নেই। তাই পালিয়ে জান রক্ষা করছে। এভাবে পালাতে পালাতে একদিন
মানুষের মন থেকেও তারা চিরতরে হারিয়ে যাবে বলে তারা মনে করেন।