ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ
উজ্জ্বল চক্রবর্ত্তী শিশির, দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার দুপচাঁচিয়া হিন্দু(সনাতন) ধর্মালম্বীদের বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা,পূজাকে সামনে রেখে মন্ডপে মন্ডপে শিল্পীর নিপুণ হাতে রং তুলির আচঁড়ে দেবী দুর্গার রূপ-লাবণ্য ফুটিয়ে তোলার কাজ চলছে। শরৎতের আগমনে মা দেবী দুর্গার আগাম বার্তা। আগামী ৯ অক্টোবর(২৩শে আর্শ্বিন)সোম বার মা দেবী দূর্গা ও তার পুত্র কণ্যা সহ দোলায়(পালকিতে)চড়ে কৈলাশে আগমন করবেন। আর দেবী দুর্গা দোলায় আগমন করলে যার ফল হয় ('মড়ক'), আর দেবীদুর্গা এবার কৈলাশ থেকে গমন করবেন ঘোটকে(ঘোড়া)যার ফল হবে ('ছত্রভঙ্গ') তার ফলে জগৎ সংসার খুব ভালো হয়না অর্থাৎ দেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রের হানাহানি ও জগৎ সংসারে 'মড়ক' দেখা দেবে। এবার আমাদের উচিৎ মা দেবী দুর্গার কাছে শ্রদ্ধা ভরে এজগৎ বিশ্ব
অর্থাৎ পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য মঙ্গল কামনা ও আশীর্বাদ প্রার্থনা করা।
সারাদেশে ন্যায় বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলাতে এবার প্রায় ৪০টি পূজামন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। সব মন্ডপেই চলছে সাজ সজ্জার কারুকার্জ। দিনক্ষণ সময় যতই গড়িয়ে আসছে শিল্পীর নিপুণ হাতে মা দেবী দুর্গার রং তুলির আচঁড়ে রূপ লাবণ্য ফুটিয়ে তোলার কাজের ব্যস্ততা ততই বাড়ছে। দুপচাঁচিয়া পৌর এলাকার লক্ষ্মীতলা ও টাউন বারোয়ারী পূজা মন্ডপ,এবার লোকনাথ মন্দিরের মৃত শিল্পের কারিগর দিপক কর্মকার রূপালী বাংলাদেশ প্রতিনিধিকে জানান, রংতুলির কাজে এখন তার ব্যস্ততা বেড়ে গেছে।এরপর তালোড়া পৌর এলাকার মন্ডপে ঘুরে এসে প্রতিমা নির্মাণের মৃৎশিল্পের কারিগর দিলীপ চন্দ্র মালাকার জানান,এ মন্ডপে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে প্রতিমা তৈরি করছি,এবাদে দুপচাঁচিয়া থানা এলাকায় তিনটি ও তালোড়া বাজারে একটি সহ মোট চারটি প্রতিমার কাজ পেয়েছি। আমি চেষ্টা করি প্রতি বছর নিপুন হাতে মা দুর্গা সহ সকল প্রতিমাকে নতুন আঙ্গীকে ফুটিয়ে তোলা একজন শিল্পীর নৈপুণ্যতা। মাটি ও বিভিন্ন উপকরণের মাধ্যমে মা দুর্গাদেবীকে ফুটিয়ে তুলেছে । এরপর ঘুরে আসি দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালোড়া পৌর এলাকার বিনোদ পোদ্দার পবন বাবুর পূজা মন্ডপে,প্রতিমার রং তুলির কাজ প্রায় শেষের দিক।দেবি দুর্গার রূপ-লাবণ্য ফুটিয়ে তোলা একজন শিল্পীর দক্ষতা।এই প্রতিমা নির্মাণ করেছেন চুয়াডাঙ্গা জেলার শ্রেষ্ঠ মৃৎশিল্পের কারিগর অমল চন্দ্র পাল।
পঞ্জিকা মতে: আগামী ৮ অক্টোবর(২৩শে আর্শ্বিন) মঙ্গলবার দেবীদুর্গার শুক্লাপঞ্চমী তিথীতে পূজা সায়াংকালে বোধনের ঘট স্হাপন। ৯অক্টোবর(২৪শে আর্শ্বিন) বুধবার ষষ্ঠাদিকল্পারম্ভ পূজা ও দেবী আমন্ত্রণে অধিবাস।১০অক্টোবর(২৫শে আর্শ্বিন) বৃহস্পতিবার (সপ্তমী)পূজা,১১অক্টোবর(২৬শে আর্শ্বিন) শুক্রবার মহা অষ্টমী ও সন্ধিপূজা এরপর ১২ অক্টোবর(২৭শে আর্শ্বিন) শনিবার দেবীর শুক্লা মহানবমী বিহিত অধিক পূজা শেষে দেবীর দশমী পূজা কল্পে সমাপনান্তে বিসর্জন।১৩অক্টোবর (২৮শে আর্শ্বিন)রবিবার বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ৫দিনব্যাপী হিন্দু(সনাতন)ধর্মের শারদীয় দুর্গোৎসব। প্রতিটি পূজা মন্ডপে তাদের নিজ নিজ সেচ্ছাসেবী কর্মী পর্যায়ক্রমে মন্দির প্রাঙ্গণে পাহারার ব্যবস্হা করেছে। এ ছাড়াও পূজামন্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা সেটআপ সহ মন্দিরে সাজসজ্জ্যা করতে দেখা গেছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সেনাবাহিনী টিম পূজামন্ডপে টহল অব্যাহত রেখেছেন ।