ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ
মো. তহমিদুর রহমান, বগুড়া
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা থেকে পদত্যাগ করায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দেশ ছাড়ার পর বগুড়াসহ সারাদেশে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে করা হয়েছে উল্লাস।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের টানা কয়েক দিনের আন্দোলনে জনজীবন ছিল স্থবির। এর ওপর কারফিউ ও সাধারণ ছুটিতে সারাদেশের মতো অনেকটাই অচল হয়ে পড়ে বগুড়া শহরও। সরকার পতনের আন্দোলনে সফলতার পর দেশ সংস্কারে নেওয়া হয় বিভিন্ন উদ্দোগ। শিক্ষার্থীরা মাঠে নামে দেশকে নতুন রুপে সাজাতে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণসহ পরিষ্কার অভিযান ও বৃক্ষরোপণে দেওয়া হয়েছে বাড়তি গুরুত্ব। এরপর বগুড়ার দেয়াল গুলোকে রং তুলিতে দেওয়া হয় নান্দনিক রুপ। প্রতিটি দেয়াল যেন সংগ্রাম এবং বিজয়ের প্রতিচ্ছবি।
মঙ্গলবার থেকে সাতমাথায় বেশ কয়েকজন ছাত্র নিজ উদ্যোগে যানজট নিরসনে সুচারুভাবে দায়িত্ব পালন করায় কোন যানজট বা সড়কে বিশৃঙ্খলা চোখে পড়েনি। বিভিন্ন যানবাহনের চালকরাও স্বেচ্ছাসেবী ছাত্রদের নির্দেশনা মেনে সড়কে গাড়ি চালাচ্ছেন। কোন হয়রানি ছাড়াই ছাত্রদের এমন দায়িত্বশীল আচরণে মুগ্ধ শহরে আসা মানুষ। বিগত দিনের তুলনায় সড়কে যানবাহন কিছুটা বেড়েছে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ছাত্রদের ভূমিকার প্রশংসা করছেন সবাই।
আঁকানোর কাজে অংশ নেয়া শিশির হাসান বলেন, ‘দেয়ালে দেয়ালে যে ভাষা ফুঁটে উঠেছে তা আমাদের প্রতিবাদের ভাষা। যে ভাই ও বোনেরা রক্ত দিয়েছে তাদের স্মরণ করে রাখতে আমাদের এই কর্মসূচী। পাশাপাশি সুন্দর, সাম্য, বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা গড়ার প্রাথমিক ধাপও আমাদের এই কর্মসূচির অংশ।’
উল্লেখ্য, জুলাইয়ের শুরুতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। প্রথম সপ্তাহ রাজধানীর শাহবাগ ঘিরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলে। ১৪ জুলাই পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শিক্ষার্থীরা। এরপর দফায় দফায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। সারাদেশে স্ফুলিঙ্গের মতো ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলন। বাড়তে থাকে প্রাণহানি। অবশেষে সরকার পতনের এক দফা দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমে আসে ছাত্র-জনতা।