ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজের নিউরো সার্জারি ওয়ার্ডের শয্যায় অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন আব্দুর রহমান প্রামাণিক (৬৫) ওরফে ইয়াকুব আলী। গত শুক্রবার রাত ১১.১৫ মিনিটের দিকে তার বড় ছেলে আব্দুর রশিদ, রতন (৪০) ছেলের স্ত্রী রুমানা খাতুন, নাতী মো.রিমন (১৯) চাচাতো ভাই সাখাওয়াত হোসেন সহ তাদের সঙ্গী আরও কয়েকজন মিলে অতর্কিত হামলা করে।
এলাকার কয়েক জন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার নারচী ইউনিয়নের কুপতলা উওর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা ইয়াকুব আলী পেশায় একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী । তাঁর স্ত্রী ২ জন তারা দুইজনই গৃহিনী। তাঁদের তিন মেয়ে , তিন ছেলে। বড় ছেলে আব্দুর রশিদ রতন ২০ বছর আগে বিয়ে করে সাত বছর আগে থেকে আলাদা হয়ে যান। এরপর থেকে জমিজমা নিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে তাঁর বিরোধ শুরু হয়। কিছুদিন ধরে রতন তাঁর নামে একটি জমি লিখে দেওয়ার জন্য বাবাকে চাপ দেন। বাবা জমি লিখে দিতে রাজি না হওয়ায় প্রায়ই ঝগড়াঝাটি ও মারামারি হতো।
এসব কারনে ইয়াকুব আলীর বড় ছেলে তার বাবার বাড়িতে যাওয়ার রাস্তায় বেড়া দিয়ে একটি সরু গলি করে রাখে। রাস্তা খুলে দিতে ইয়াকুব আলী তার বড় রতনকে অনেক বার অনুরোধ করলেন তার কোন সাড়া না পেয়ে স্হানীয় ইউনিয়ন পরিষদে শালিশ করা হয় । স্হানীয় ভাবে মীমাংসা না হলে এটি আদালতে গড়ায়। এর আগেও রতন তার বাবাকে মারাত্মক আহত করেছিলো যার মামলা নং ১৫৫/২০২২ মামলাটি এখনও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
গত শুক্রবার ইয়াকুবের মেয়ে মোছা.রোখসানা বেগম সারিয়াকান্দি থানায় উপস্থিত হয়ে মামলা করে মামলার এজাহার সুএে জানাযায়, জমি-জমা সংক্রান্ত পুর্বের জের ধরে শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) এগারোটা ১৫ মিনিট দিকে আমার বাবা মা যখন ঘুমিয়ে যায় তখন বাড়ির গেইট ভেঙ্গে আব্দুর রশিদ (রতন), রিমন ,রুমানা খাতুন,আনোয়ার হোসেন, মমতাজ বেগম আমার পিতা আব্দুর রহমান ওরফে ইয়াকুব আলীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এসময় আমার বড় ভাই রতন তার ছেলে রিমনকে হুকুম দিলে সে আমার বাবা ইয়াকুব আলীকে শাবল দিয়ে মাথায় আঘাত করে মাথা ফেটে যায়। এ সময় রতন ও তাঁর স্ত্রীকে সহযোগিতা করে মারধরে যোগ দেন চাচাতো ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রী । তাদের এই এলোপাতাড়ি মারের চোটে বাবা রক্তাক্ত হয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়। বসত বাড়ির সব কিছু ভাংচুর করে বাড়িটিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে। তাহার আত্ম চিৎকারে আশেপাশে লোকজন এগিয়ে আসলে তারা সেই স্হান ত্যাগ। আমার মা স্হানীয় লোকজনের সহযোগীতায় বাবাকে প্রথমে সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাহ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তারা উন্নত চিকিৎসার জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজে প্রেরন করে। এখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে এখন বেহুশ হয়ে আছে।
সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.জামিরুল ইসলাম বলেন, ‘বাবাকে মারধর করার একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তাৎক্ষণিক অভিযুক্তদের ধরতে ওই গ্রামে পুলিশ পাঠানো হয় একজনকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদেরকে ধরার জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সোর্স :
এ/ জে
সারাবাংলা