ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ
জাহাঙ্গীর আলম, সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার নওখিলা পি এন উচ্চ বিদ্যালয়ের আইসিটি বিষয়ের সহকারি শিক্ষক মো.শহিদুল ইসলাম (সুজন)। তিনি ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মনোনয়ন নিয়ে জানুয়ারী মাসের ৩১ তারিখে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৮নং কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর থেকে তিনি বিদ্যালয় থেকে শিক্ষক পদের বেতন-ভাতা নিয়ে চালিয়ে আসছেন চেয়ারম্যান পদের কার্যক্রম।
অনুসন্ধানে জানাযায়,শহিদুল ইসলাম সুজন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে তিনি বিদ্যালয়ে অনিয়মিত ছিলেন।এরপর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত তিনি বিদ্যালয়ে আসেন নিজের ইচ্ছে মাফিক। নিজের বিষয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদানের বিষয়ে নেই কোন আগ্রহ। প্রথম এক বছর সে একজন প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে ক্লাশ নেয়। বিদ্যালয় কমিটি যখন এটা মেনে নেন না। তখন প্রক্সি শিক্ষকে বাদ দিয়ে তিনি মাঝে মাঝে বিদ্যালয়ে গিয়ে ক্লাশ নেন।তিনি বিদ্যালয়ে নিয়মিত না আসায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাধ্য হয়েই তার বিষয়ে পাঠদান কখনোও নিজে করাচ্ছেন আবার কখনোও বা অন্য শিক্ষক দিয়ে পাঠদানের কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন।
এই বিষয়ে একাধিকবার শিক্ষক শহিদুল ইসলাম সুজনকে বলার পরও শিক্ষক সুজন তা কর্ণপাত না করে বহাল তবিয়তে বিদ্যালয়ে যদি একদিন ক্লাশ নেয় দুই দিন কোন খোঁজ থাকেনা। সকালে বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় সই করে বেরিয়ে যান। এদিকে ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদের কার্যক্রমও ঠিকমত না চালানোর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে ।তার ইউনিয়নের আট জন মেম্বার তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি অভিযোগ তুলে ইউএনও, ডিসি বরাবর স্মারক লিপি প্রদান করেছে সাম্প্রতিক সময়ে। এছাড়া তার ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে।
বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ও কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সুজন মুঠোফোনে জানান, আমি সারাদিন বিদ্যালয়ে ক্লাশ নিয়ে বিকেলে সময় পেলে ইউনিয়ন পরিষদে বসি।
নওখিলা পিএন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিমান কুমার বলেন নিয়ম-নীতি অনুসারে একজন সহকারি শিক্ষককে অবশ্যই বিদ্যালয় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে অবস্থান করতে হবে। কিন্তু শহিদুল ইসলাম সুজন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে বিদ্যালয়ে আসেন নিজের ইচ্ছে মাফিক। তার ক্লাশ থাকে একটা অথবা সেই ক্লাশ গুলো নিয়ে সে চলে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন,এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কারণে আমি সহ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছি। তাই শত শত শিক্ষার্থীকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত একটি সমাধান করতে হবে বলে তিনি মনে করেন।
সারিয়াকান্দি উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মিলন বলেন, স্যার থাকতে আমি কিছু বলতে পারবোনা সেটা ঠিকও হবে না। তারপরেও স্যারের কাছ থেকে শুনে আপনাকে জানাবো এরপর আর সে কিছুই জানাইনি এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত। সারিয়াকান্দি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সরোয়ার ইউসুফ জামালের সাথে সাক্ষাৎ করে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে, আমি এখানে এসে যোগদান করার পরেই আমার একটি মেজর অপারেশন হয়। এ কারনে খুব বেশি খোজ খবর নিতে পারিনী। তবে এখন যেহেতু জানতে পেরেছি অবশ্যই খোঁজ নিয়ে বিধি মোতাবেক ব্যবস্হা গ্রহন করবো।
জেলা শিক্ষা অফিসার মো.হযরত আলী বলেন, শহিদুল ইসলাম সুজন একজন শিক্ষক বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে অন্যকোনও কাজ করার তার কোনও সুযোগ নাই। বিদ্যালয় বন্ধ থাকলে অথবা ছুটির দিনে সে জন প্রতিনিধি হিসেবে এলাকার যে কোনও কাজ সে করতে পারে। উপজেলা শিক্ষা অফিসার এবিষয়ে কেন আমাকে জানালো না বা কেনও কোনও ব্যবস্থা নিলো না এটা আপনি উনাকে জিজ্ঞাসা করবেন।